|
রাজনীতিশূন্য বিএনপি
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে লড়াই-সংগ্রাম করেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ২০২৪’র জুলাই আন্দোলনেও সামনে থেকে নেতৃত্বও দিয়েছে দলটি। যার ফলশ্রুতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটি সম্পাদক, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেকেই মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। ফলে সরকারের সঙ্গে দল এক প্রকার বিলিন হয়ে গেছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রম।অন্যদিকে বর্তমানে রাজপথের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে নির্বাচনের পর থেকে। দুটি দলই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে টার্গেট করে চালিয়ে যাচ্ছে দলীয় কার্যক্রম। বিভিন্ন এলাকায় রমজানে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে দলীয় বৈঠক ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করাসহ নানা কার্যক্রমই চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তারা এখন থেকেই ঘুরছেন বিভিন্ন এলাকায়, সম্পৃক্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন ব্যস্ত সরকারের বিভিন্ন পদে জায়গা পাওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাপে। আগে যেখানে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় থাকতো নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশান কার্যালয়ে, সেখানে এখন দিনভরই সুনশান নিরবতা। সকলেই হয়েছেন সচিবালয়মুখী। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে দলের কার্যক্রম পরিচালিত হতো নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। যেখানে প্রতিনিয়তই থাকতো নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড়। তারেক রহমান দেশে ফেরার সেটি কেন্দ্রে পরিণত হয় দলের চেয়ারম্যানের গুলশানের কার্যালয়কে ঘিরে। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের মন্ত্রি পরিষদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণ করার পর এই দুই কার্যালয় কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অলস সময় পার করছেন। দিনের বেলা দলের কোন নেতাকর্মী কার্যালয়মুখী হন না বললেই চলে। তবে বিকেলের পর অঙ্গসংগঠনের কিছু কিছু নেতাকর্মী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইফতারে অংশ নিচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেছে গুলশান কার্যালয়েও। সেখানেও এখন দলের নেতাকর্মীদের আনাগোনা আগের মতো দেখা যায় না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কার্যালয়ের বাইরে শত শত নেতাকর্মী অনবরত আসা যাওয়া ও ভিড় করতেন সেখানেও এখন নেতাকর্মী শূণ্য দেখা গেছে। নয়াপল্টন কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে নয়াপল্টন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় কিছুটা কম। এর মধ্যে দলের মহাসচিব এবং সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার একদিন এসেছিলেন। তিনি যেদিন এসেছিলেন সেদিন আবার কার্যালয়ে অনেক নেতাকর্মী এসেছিলেন। এছাড়া সারাদিনই তেমন নেতাকর্মীর আসা যাওয়া নেই। তবে বিকেলে অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তাদের নিজ নিজ সংগঠনের কার্যালয়ে আসেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, দল এখন সরকারে বিলিন হয়ে গেছে। আগে যেখানে নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হতো নির্বাচনের পর আর সে ধরণের কোন সভাও ডাকা হয়নি। এছাড়া দলের কোন ইস্যু নিয়ে কেউ কারো সাথে আলাপ-আলোচনাও হচ্ছে না। তিনি বলেন, দল যদি সরকারের সঙ্গে মিলে মিশে চালাতে চায় সেভাবে চলবে, আর যদি মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন গড়তে চায় তাহলে দলীয় কার্যক্রম ভিন্নভাবে চালাতে হবে। এটা দলের যারা এখন নীতিনির্ধারক আছেন তারা ঠিক করবেন। দলের কার্যক্রম সম্পকে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি মাত্রই সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে। এছাড়া জরুরি কোন ইস্যুও নেই। তাই কিছুটা ধীরগতি মনে হচ্ছে। দলের অনেকে অনেক দায়িত্বে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাই কিছুটা সময় লাগবে। দ্রুতই নিশ্চয়ই দলের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের কার্যক্রম স্থবির আছে এটি ঠিক নয়। আমরা মাত্র সরকার গঠন করেছি, সরকার কেন্দ্রীক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া রমজান মাসে সব সময় এমনিতেই দলীয় কার্যক্রম কিছুটা স্লো থাকে। একটু সময় লাগবে, দ্রুতই পুরোদমে দলীয় কার্যক্রমে গতি ফিরবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্যান্য দল দলীয় কার্যক্রম সচল রেখেছে এ ক্ষেত্রে বিএনপি পিছিয়ে আছে কিনা? এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন আসলে তখন দেখবেন দল আরো অনেক বেশি গতিশীল হয়ে কার্যক্রম শুরু করবে। বিগত দিনে বিএনপি পুরো রমজান মাসে ইফতার কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে কিন্তু এবছর তেমন চোখে পড়ছে না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন সরকারই ইফতার আয়োজন করছেন। |