|
ধীরগতির ওয়াই-ফাই? রাউটারের এই ৪ সেটিংস বদলালেই সমাধান মিলবে
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ভিডিও কলের মাঝখানে ছবি থেমে যাচ্ছে, সিনেমা দেখতে গিয়ে বারবার বাফারিং, কিংবা ফাইল ডাউনলোডে অস্বাভাবিক সময় এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ইন্টারনেটের গতি কম বলেই এমন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটি অনেক সময় আপনার বাসার রাউটারের সেটিংসেই লুকিয়ে থাকে।রাউটার সাধারণত এমন ডিফল্ট সেটিংসে চলে, যা সবার জন্য উপযোগী করে তৈরি করা। কিন্তু আপনার বাড়ির পরিবেশ, আশপাশের নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সেই সেটিংস সবসময় সেরা ফল দেয় না। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনেই মিলতে পারে দ্রুত ও স্থিতিশীল সংযোগ। ১. ওয়্যারলেস চ্যানেল পরিবর্তন করুন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনেক রাউটার একই চ্যানেলে কাজ করে। ফলে নেটওয়ার্কে ভিড় তৈরি হয় এবং গতি কমে যায়। রাউটারের নিয়ন্ত্রণ পাতায় প্রবেশ করে দেখুন বর্তমানে কোন চ্যানেল ব্যবহার হচ্ছে। কম ব্যবহৃত বা কম ভিড়যুক্ত চ্যানেলে বদলে দিলে সংযোগ আরও স্থিতিশীল হতে পারে। চ্যানেলের প্রস্থও গুরুত্বপূর্ণ। বেশি প্রস্থে গতি বাড়তে পারে, তবে কভারেজ কমতে পারে। আবার কম প্রস্থে গতি কিছুটা কম হলেও সংযোগ অনেক সময় বেশি নির্ভরযোগ্য হয়। ২. পরিষেবার মান নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু রাখুন রাউটারে এমন একটি ব্যবস্থা থাকে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডিভাইসকে অগ্রাধিকার দেয়া যায়। যেমন স্মার্ট বাল্ব বা অন্যান্য ছোট ডিভাইস যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে, তাহলে ল্যাপটপে ভিডিও কল বা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখার সময় সমস্যা হতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে ল্যাগ কমে এবং অনলাইন কাজ হয় আরও মসৃণভাবে। ৩. রাউটারের সফটওয়্যার আপডেট করুন অনেকেই রাউটারের সফটওয়্যার আপডেট করেন না। পুরোনো সংস্করণে ত্রুটি বা নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থাকতে পারে, যা সংযোগের গতি ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে। রাউটারের সেটিংসে গিয়ে হালনাগাদের অপশন দেখে নতুন সংস্করণ ইনস্টল করলে কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তা দুটিই উন্নত হতে পারে। ৪. বিকল্প নাম-অনুসন্ধান সার্ভার ব্যবহার করুন রাউটার সাধারণত ইন্টারনেট সরবরাহকারীর নির্ধারিত নাম-অনুসন্ধান সার্ভার ব্যবহার করে। এটি সব সময় দ্রুত নাও হতে পারে। অন্য নির্ভরযোগ্য সার্ভার ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হতে পারে এবং ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হয়। চাইলে নিজস্ব সার্ভার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা যায়, যা নেটওয়ার্কের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ দেয়। ধীরগতির ওয়াই-ফাই মানেই নতুন রাউটার কেনা এ ধারণা সব সময় ঠিক নয়। অনেক সময় সামান্য কিছু সেটিংস পরিবর্তনেই বড় উন্নতি দেখা যায়। চ্যানেল ঠিক করা, গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসকে অগ্রাধিকার দেওয়া, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং সঠিক সার্ভার নির্বাচন এই চারটি পদক্ষেপেই আপনার ঘরের ইন্টারনেট হতে পারে দ্রুত, স্থিতিশীল ও ঝামেলামুক্ত। |