|
বনানীতে বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় কথিত সোর্সের দখল বানিজ্য-চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
|
রাজধানীর বনানীতে বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্স শহীদ ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবাধ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় অপরাধ চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দাবি করছে, ওই ব্যক্তি বনানী এলাকার বিভিন্ন বস্তি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।বনানীর ২ নম্বর রোড, কড়াইল বস্তি, বেদে বস্তি, গোডাউন বস্তি, এরশাদ নগর ও বেলতলা এলাকাকে মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং পুলিশের নিকটস্থ এলাকায় থেকেও অবাধে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। কথিত সোর্স শহীদ প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে দুই লাখ টাকা আত্মসাত এবং জোর পূর্বক বস্তির ঘর দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ফারুক নামক এক ব্যক্তি। জানা গেছে বনানীর গোডাউন বস্তির বাসিন্দা ফারুক একসময় শহীদের বন্ধু ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, বনানীর টিএন্ডটি মাঠসংলগ্ন গোডাউন বস্তিতে বসে তিনি একদল মাদক ব্যবসায়ীকে লালন-পালন করছেন। এছাড়া, অতীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে যুবলীগে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যুবলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি পাওয়া যায়। বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, ওই ব্যক্তি পূর্বে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং এখনো পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছেন। তাঁদের মতে, এতে অনেক সময় প্রশাসনের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদ একসময় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী থাকলেও এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গোডাউন বস্তির অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। পূর্বে থেকেই সে মাদক ব্যবসার মহাজন হিসেবে চিহ্নিত। তাকে শেল্টার দিচ্ছে বনানী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা। এদিকে বস্তিবাসী অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি শহীদ বস্তিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপন করছে। রাতের গভীরে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে। এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শহীদ টঙ্গীতে একটি ভবন নির্মাণ করেছেন এবং বনানীর বস্তি এলাকায়ও বেশ কয়েকটি ঘর ও দোকান ভাড়া দিয়ে আয় করেন। এছাড়া সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে কড়াইলের ঝিল দখল চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বনানী থানা বিএনপির সদস্য আবু জাফর দেওয়ান বলেন, "একদিন আমাদের দলীয় মিছিলে শহীদকে দেখে এক নেতার কাছে আপত্অতি ও অভিযোগ করেছিলাম। পরে নেতা বলেছিল শহীদের লোকজন আছে। মিছিলে লোক দিতে পারে। তাই তাঁকে রাখা লাগে।" অন্যদিকে, বনানী থানায় সদ্য যোগদান করে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, “বনানী থানা এলাকা অপরাধী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য জিরো টলারেন্স ফর্মুলা চলবে। সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” |