|
লোহাগড়ায় মুসা মোল্যার বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
মো: শাহীনুজ্জামান,নড়াইল :
|
নড়াইলের লোহাগড়ায় জমির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আপন ছোট ভাই মুসা মোল্যার বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বড় ভাই ইতালিপ্রবাসী মো.বিল্লাল মোল্ল্যা। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুসা মোল্যা। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মো.বিল্লাল মোল্ল্যা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো.বিল্লাল মোল্ল্যা বলেন, তিনি লক্ষ্মীপাশা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে গত ২১ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। তার দাবি, লক্ষ্মীপাশা এলাকায় দানপত্রমূলে পাওয়া ১ একর ৮৫ শতাংশ জমির মধ্যে ৬১ শতাংশের মালিক তিনি। প্রবাসে থাকার সময় তার ছোট ভাই ও পরিবারের সদস্যরা এসব জমি দেখাশোনা করতেন। মো.বিল্লাল মোল্ল্যার অভিযোগ, ২০১৪ সালে দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার অজান্তে ওই জমির কিছু অংশ খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে একই বছর আদালতে বণ্টন মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট নিজের স্ত্রীর নামে ৩৯ শতাংশ জমির মধ্য থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি হেবা দলিল করে দেন। ওই জমির পৃথক দাগ নম্বর ৬৪২ এবং খাজনা ও রেকর্ড তার স্ত্রীর নামে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মো.বিল্লাল মোল্ল্যার অভিযোগ, ২০১৮ সালে তার স্ত্রীর নামে থাকা ওই জমির বিষয়ে জাল দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা করেন তার ছোট ভাই মুসা মোল্যা। রাতের আঁধারে জমিতে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত দাগ নম্বর ৬৪২ হলেও ১৪৪ ধারাসংক্রান্ত কার্যক্রমে ৫৫৫ নম্বর দাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে ভিন্ন দাগ দেখিয়ে জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তার দুই বোনকে পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মো.বিল্লাল মোল্ল্যা। এসব বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি জমি দখলমুক্ত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে মো.বিল্লাল মোল্ল্যা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছোট ভাই মো. মুসা মোল্যা। এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাচীর ভাঙার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। |