|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে টয়লেট নির্মাণে বাধা
নারীদের শ্লীলতাহানি ও যুবককে ছুরিকাঘাত করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
|
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিজ বাড়িতে টয়লেট নির্মাণ কাজে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় নারীদের মারধর করে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সন্ত্রাসী বাহিনী। আর তাতে বাধা দিতে গেলে ওই যুবকের মা ও দুই ভাবীসহ তিন নারীকে শ্লীলতাহানি করে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও হামলার সময় নারীদের পরিহীত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ করেছে আহত পরিবারের সদস্যরা। পরে গুরুতর আহত যুবককে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এনিয়ে শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন আহত যুবকের মা ও শ্লীলতাহানির শিকার নারী।আহত যুবক শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের পূর্ব জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামের মো. বুলবুল আলীর ছেলে আলামিন আলী (১৮)। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, উদ্ধারকারী, আহত যুবকের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মো. রফিক আলীর ছেলে আব্দুল মালেক তার মা এর কাছ থেকে পাওয়া জমিতে বসবাস করেন। সেখানেই একটি টয়লেট নির্মাণের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন আব্দুল মালেক। এ সময় তার আপন মামাতো ভাই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ১২-১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে ধাওয়া খেয়ে আব্দুল মালেক পালিয়ে গেলেও হামলা ঘটনার প্রতিবাদ জানালে ছুরিকাঘাত করা হয় আহত আলামিনকে। এমনকি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ায় চেষ্টাও করে সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহর দল। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে এগিয়ে গেলে মারধর করা হয় আলামিনের মা মটরী বেগম (৪৭), তার ভাবী লামিয়া খাতুন (২২) ও আব্দুল মালেকের স্ত্রী শাবানা খাতুনকে (২৫)। শুধূ মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসী দল, তাদের উপর হামলা ও শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে চিৎকার-চেচামেচিতে স্থানীয় নারী-পুরুষরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারী সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আলামিন আলীকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ বিষয়ে আহত আলামিন আলীর মা মটরী বেগম জানান, আমার ভাগনে (স্বামীর বোনের ছেলে) তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জমিতে বসবাস করে। সেখানেই টয়লেট নির্মাণ করতে গেলে দেবরের ছেলে আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে হামলা করা হয়। তারা টয়লেটের গর্তও ভরাট করে দেয়। আমার ছেলে শুধুমাত্র বলেছে কেন এমন করছ ? তারা নিজেদের জায়গায় টয়লেট বানাচ্ছে। এ কথা বলা মাত্রই আমার ছেলের উপর তারা হামলা করে এবং তার কাছে থাকা ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পাশাপাশি আমার বউয়ের স্বর্নালংকার ছিনিয়ে নেয় তারা। আহত মো. আলামিন আলী বলেন, আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যেতে চাইছিল তারা। মা ও ভাবী বাধা দিলে তাদের উপরেও হামলা করা হয়। এমনকি হামলার পরেও এখনো হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এখনো। আমরা এই হামলা ও নিরাপত্তার দাবি জানায়। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, হামলা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। |