|
জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ‘Mass Dog Vaccination Campaign’-এর উদ্বোধন
সিলেট সিটিতে প্রায় চার হাজার কুকুর রয়েছে, লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হবে টিকা গ্রহণ করা কুকুরটিকে
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট ব্যুরো:
|
আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সিলেট নগরীর ৪২ টি ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ‘Mass Dog Vaccination Campaign’-এর কার্যক্রম। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া সহ নানা কারণে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সিসিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে বলে সম্মত হয় জনস্বার্থে। সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিনব্যাপী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ টিম মাঠে রয়েছে যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বলে নিশ্চিত করেছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ড.আবু জাফর মো: ফেরদৌস। তিনি জানান,জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এ কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ‘Mass Dog Vaccination Campaign’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন,প্রাণী নিধন করা যাবে না। তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার পড়ে থাকে, সেসব এলাকায় কুকুরের বিচরণ বেশি। সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য অপসারণের আগের সময়েও কুকুরগুলো খাবারের সন্ধানে এসব স্থানে জড়ো হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাতেও কুকুরের উপদ্রবের কথা জানানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সিসিক প্রশাসক নগরবাসীকে সাবধান করে বলেন , কুকুরের টিকাদান করা হলে কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। তবে কেউ কুকুরের কামড়ের শিকার হলে কোনোভাবেই বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে। কুকুরের উপদ্রব বেশি হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সিসিক জানায়,সিলেট নগরীতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে কুকুরের গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে প্রতিটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়া কুকুরগুলোকে বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সাম্প্রতিককালে সাধারণ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কুকুর এভাবে উগ্র হয়ে গেলে আমরা সেটিকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসি। সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিনব্যাপী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এতে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া কুকুর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। যেখানে লাল রং ব্যতীত কুকুর দেখা যাবে সে ইনফরমেশন সংশ্লিষ্টদের জানালে যথাযথ পদক্ষেপ না হবে। টিকা দেওয়ার জন্য আমাদের টিম কুকুর যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা দেখে আমরা নিজেরাও অবাক হয়েছি। এই কাজগুলো যারা করছে এতটাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং দক্ষ। আমরা এ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য OSHA (ওশা - Occupational Safety and Health Administration) আমেরিকার ওরেগন রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ, যা বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যকর্মী বা ট্র্যাডিশনাল হেলথ ওয়ার্কারদের (THW) সার্টিফাইড প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিনজন সহ আরো দক্ষ ১২ জন থাকবে। প্রতিবছর কুকুর ভ্যাকসিনটি নিতে হবে। তবে কুকুর টিকা দেওয়ার পরও সে কুকুর দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হলে তাকে টিকা নিতে হবে কারণ স্বাস্থ্য বিভাগ টিকা না নেয়ার ঝুঁকি বহন করে না। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা। আমরা চারটি গ্রুপে বিরক্ত করেছি কর্মসূচি। ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড, ১০ থেকে ২০, ২০ থেকে ৩০, ৩০ থেকে ৪২। সিলেট সিটিতে বেওয়ারিশ প্রায় ৪ হাজার কুকুর রয়েছে। কুকুরকে বিশ্রামের পূর্বে খাবার সংগ্রহের সময় বেশি পাওয়া যায় এছাড়াও গাড়ি নিয়ে ঘুরবে আমাদের লোকজন। গৃহপালিত কুকুরকে নিজ উদ্যোগেই মালিকরা নিয়ে এসে টিকা দিবেন । উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন। উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার। |