|
গুলশানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার ছক: নেপথ্যে অধরা ছাত্রলীগ নেতা টিপু
বিশেষ প্রতিনিধি:
|
রাজধানীর গুলশানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক তৎপরতার অন্যতম নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে বনানী থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইফতে আলম রাব্বি ওরফে টিপুর নাম। নানা গুরুতর অভিযোগে নাম থাকলেও তিনি এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সম্প্রতি গুলশানে অনুষ্ঠিত ঝটিকা মিছিলের মূল পরিকল্পনা এবং মিছিল শেষে অংশ নেওয়া কর্মীদের নিরাপদ প্রস্থান (সেফ এক্সিট) নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা ছিল এই ছাত্রলীগ নেতার।অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝটিকা মিছিলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক নিয়ে সশরীরে অংশ নেন টিপু। এই শো-ডাউনের জন্য লোক জড়ো করতে তিনি তাঁর আপন ছোট ভাই ও খালাতো ভাইদের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ একটি বলয় ব্যবহার করেন। এর আগেও তাঁর নেতৃত্বে বনানী এলাকায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে আত্মগোপনে থাকার কথা বলা হলেও বনানী এলাকায় টিপুর নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে। বনানীতে তাঁর পুরাতন গাড়ির ব্যবসা স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, টিপুর ইশারায় তাঁর ভাইয়েরা পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে স্থানীয় কেউ মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে টিপুর ভাইয়েরা তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল নিক্ষেপ ও বাসে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে টিপুর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। মহাখালীর আমতলীতে ককটেল বিস্ফোরণের একটি ভিডিও ‘Tipu Ahmed’ নামের নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওটির চিত্রায়ন ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, বিস্ফোরণের আগ মুহূর্ত থেকেই এটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারণ করা হচ্ছিল। এছাড়া তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিতভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ভিডিও, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে উসকানিমূলক বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদেশে অবস্থানরত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দেশের ভেতরে তাঁদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন টিপু। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, "অপরাধী বা নাশকতায় যুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় দেখার কোনো সুযোগ নেই। বনানী এলাকায় মাদক ব্যবসা বা যেকোনো ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। টিপুর গতিবিধি ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।" সার্বিক বিষয়ে গুলশান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নাশকতামূলক ভিডিও ও ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। নাশকতার পরিকল্পনাকারী বা অর্থদাতাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার নেপথ্যে থাকা টিপুসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।" |