|
বংশালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিশা রানীর আত্মহত্যা, নেপথ্যে কী জানাল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
রাজধানীর বংশালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে নিশা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বান্ধবী মিনাক্ষী রানী ও বিকি বাবু ওরফে শ্রী বিকি হেলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে নিশাকে গালমন্দ ও অপমানজনক কথাবার্তা বলে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে না পেরে আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নেন নিশা রানী। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন। পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর সকালে বান্ধবী মিনাক্ষী রানীর সঙ্গে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে যান ২৮ বছর বয়সী নিশা রানী। সেখানে মিনাক্ষীর কথিত প্রেমিক বিকি বাবুর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে মন্দির থেকে বের হয়ে নাশতা করেন। এরপর যান রমনা কালী মন্দিরে। পুলিশের ভাষ্য, রমনা কালী মন্দিরে পূজা শেষে মিনাক্ষী ও বিকি বাবুর ঘনিষ্ঠ আচরণ দেখে নিশা মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি মন্দিরের পাশের একটি বাথরুমে গিয়ে নিজের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে মিনাক্ষী তাকে সেখান থেকে একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান। সেখানেও নিশা নিজের গলার নিচে নখ দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে নিশা ও মিনাক্ষী নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান। ওই দিন বিকালে মিনাক্ষীর স্বামী কর্মস্থল কুমিল্লার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। এরপর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বিকি বাবু মিনাক্ষীর বাসায় আসেন। খবর পেয়ে নিশাও সেখানে যান। পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে বিকি বাবু ও মিনাক্ষী তাদের সম্পর্কের মধ্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিশাকে গালমন্দ ও অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই দিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে বংশাল থানার সিটি কলোনিতে মিনাক্ষীর বাসার ভেতর তাদের সামনেই নিশা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নিশাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ২৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত নিশা রানীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বংশাল থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বংশাল থানা এলাকার একটি স্থান থেকে মিনাক্ষী রানীকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে সিরাজগঞ্জের নাবিল হাইওয়ে হোটেল থেকে বিকি বাবু ওরফে শ্রী বিকি হেলাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আরও যা জানা গেল স্থানীয় একট সূত্র জানায়, নিশা রানী ও মিনাক্ষী রানী সমকামী এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে মিনাক্ষী রানীর সঙ্গে বিকি বাবুরও প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবর সকালে নিশা ও মিনাক্ষী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে গেলে সেখানে বিকি বাবুর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। এ সময় মিনাক্ষী ও বিকি বাবুর ঘনিষ্ঠ আচরণ দেখে নিশা ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি নিজেকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ওই দিন রাতে মিনাক্ষীর বাসায় বিকি বাবু আসেন। সেখানে মিনাক্ষী ও বিকির শারীরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নিশার সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে নিশা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। |