/ মতামত / “আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?”
“আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?”
কাজী মামুনুর রহমান মাহিম:
Published : Wednesday, 23 September, 2026 at 2:26 AM
“আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?”“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”—২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম উচ্চারিত এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যহীনতার প্রত্যাশা সামনে এসেছিল, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের একটি শাসনামলের অবসানের পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা মিলবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশার কথাই বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা সেই প্রত্যাশার সামনে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন হাজির করছে।
     
ন্যাম ভবনের মতো সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবনে একজন তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোছা. মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটটি জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়া সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একজন সাংবাদিক এবং আইন ও নীতি বিশ্লেষক হিসেবে এখানেই আমার প্রথম প্রশ্ন—রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবনেও যদি একজন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কতটা নিশ্চিন্ত হতে পারি?

মরিয়মের এই করুণ পরিণতির তদন্তই নির্ধারণ করবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায় কার। কিন্তু এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী ঘটনাবলি, অভিযোগ, নথি, ভিডিও ফুটেজ, কথিত কাবিননামা, বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি—সবকিছুই যদি তদন্তের আওতায় না আসে, তাহলে পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন কঠিন হয়ে পড়বে।

এর আগেও গাজী নজরুলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন। পরে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাকরির প্রলোভন, মগবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান, পরবর্তী সময়ে বিয়ের দাবি এবং একটি কাবিননামা সামনে আসার কথাও এসেছে। ওই কাবিননামার প্রস্তুতি, নিবন্ধন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও ছিল পরস্পরবিরোধী। গাজী নজরুল নিজে মরিয়মকে তাঁর আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন। ফলে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং নথিগত প্রশ্নের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল।

এর সঙ্গে যদি জন্মসনদ জালিয়াতির মাধ্যমে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানোর অভিযোগও যুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জন্য প্রচলিত আইনে দায় সৃষ্টি হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে গাজী নজরুলের যোগাযোগ বা সম্পর্কের সূত্র তৈরি হয়েছিল—এমন অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমানের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গাজী নজরুল হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পান। ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই জামিনের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ২১ সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এখানেই রাষ্ট্রের কাছে বড় প্রশ্ন—একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে যখন একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে, তখন তদন্ত কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত থাকে? আইন কি সবার জন্য একইভাবে প্রয়োগ হচ্ছে? নাকি ক্ষমতার অবস্থান বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতায় কোনো না কোনো সুবিধা তৈরি করে?

সাংবাদিক আদালত নন। সাংবাদিকের কাজ রায় দেওয়া নয় বরং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য প্রশ্ন তোলা। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কারও অপরাধ বা নির্দোষতা নির্ধারণ করবেন—এটাই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোনো ঘটনা, নথি, বক্তব্য বা প্রক্রিয়ার মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সেই প্রশ্নগুলো সামনে আনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।

আইনি বিশ্লেষণের জায়গা থেকে আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে—ভিন্ন ব্যক্তি, ভিন্ন অভিযোগ ও ভিন্ন মামলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি একই ধরনের প্রক্রিয়াগত ন্যায়, তদন্তের সুযোগ এবং বিচারিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে? রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার অবস্থান কি কোনো মামলার তদন্ত, জামিন, বিচার বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাস্তবতায় প্রভাব ফেলছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়, আদালতের নথি, তদন্তের অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকেই পাওয়া সম্ভব।

ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্নটি এখানেই—আইনের চোখে ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন ব্যক্তির জন্য কি একই মানদণ্ড কার্যকর হচ্ছে?

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটিও এই প্রশ্নকে আরও গভীর করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ন্যাম ভবনের সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে গাজী নজরুলের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে মরিয়মের অবস্থানের বিভিন্ন বিবরণ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল, মরিয়মের মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন এবং কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও আদালতের নথি থেকেই নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।

এখানে ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অবশ্যই জনসমক্ষে আলোচনার দাবি রাখে।

আরও একটি প্রশ্ন হলো—অভিযোগ, তদন্ত, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মধ্যে সীমারেখা কোথায়? কোনো দল কাউকে বহিষ্কার করলেই রাষ্ট্রীয় বা সংসদীয় দায়ের প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। আবার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ।

শুধু ন্যাম ভবনের ঘটনাই নয়—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, গণপিটুনি এবং কথিত ‘মব জাস্টিস’ নিয়েও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্বেগ তৈরি করছে। ৫ আগস্টের পর একটি নতুন ও অধিকতর মানবিক রাষ্ট্রের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সঙ্গে এসব ঘটনা সাংঘর্ষিক কি না—সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও সহিংসতার অভিযোগ সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র দশ দিনের মাথায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন ওরফে আযমকে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় তাঁর বাবা হত্যা মামলা করেছেন।

একজন তরুণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়—এটি আমাদের সামাজিক ন্যায়বোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও গুরুতর সংকেত।

অন্যদিকে শিশুদের নিরাপত্তার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৫৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য আসকের পর্যবেক্ষণে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু তখনও নিখোঁজ ছিল।

কুমিল্লায় শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও নতুন করে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।  আইন ও সালিশ কেন্দ্র অপ্রতিমসহ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হয়ে নিহত শিশুদের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

শিশুদের এমন পরিণতি আমাদের কোন সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়?

একদিকে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের জীবন ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এত প্রশ্ন, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের আচরণও জনমনে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। সম্প্রতি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ চলাকালীন দলটির ৩৪ জন এমপিসহ মোট ৭১ জনের বিদেশ সফরের কথা প্রথম আলোসহ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সফরটি দলীয়ভাবে পূর্বপরিকল্পিত ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, এত বিপুলসংখ্যক এমপির একযোগে বিদেশ সফরের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফরটিকে ঘিরে ‘প্রমোদ বিলাস’-কেন্দ্রিক সমালোচনাও দেখা গেছে।

এখানে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক—একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্য কেন বিদেশ সফরে গেলেন, সফরের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট কী, ব্যয়ের উৎস কী এবং জনগণের কাছে এর উদ্দেশ্য কতটা স্বচ্ছ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানও গণমাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের এমন বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য ও ম্যান্ডেট জনসম্মুখে পরিষ্কার থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে—এমন প্রতিবেদন একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই অনুসন্ধান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগের পরও তাঁর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড ও অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা গেছে।

এসব দৃশ্যমান অসঙ্গতি দেখে একজন সচেতন নাগরিক, সংবাদকর্মী ও আইন ও নীতি বিশ্লেষক হিসেবে প্রশ্ন করতেই হয়—রাষ্ট্রের আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান? নাকি ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য তার প্রয়োগের বাস্তবতা ভিন্ন?

ক্ষমতার অবস্থান যদি কখনো ন্যায়বিচারের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারানো কোনো রাষ্ট্রের জন্যই ছোট সংকট নয়।

আজ মরিয়ম, আজমুল বা অপ্রতিমদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রমাণনির্ভর তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী অভিযোগ, নথি, ভিডিও ফুটেজ, বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, কথিত কাবিননামা এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পুরো ঘটনাপ্রবাহও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন, তাঁর জন্য আলাদা কোনো বিচারিক মানদণ্ড থাকতে পারে না। একইভাবে, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত করা যায় না। প্রয়োজন—তদন্তে স্বচ্ছতা, প্রমাণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ।

তাই আজকের প্রশ্ন শুধু মরিয়মের মৃত্যুর কারণ কী—তা নয়। প্রশ্ন আরও গভীর: রাষ্ট্র কি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান নিরাপত্তা, সমান আইনি সুরক্ষা এবং সমান বিচার নিশ্চিত করতে পারছে?

মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তেই নির্ধারিত হবে। আজমুলের মৃত্যুর দায়ও আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে। অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়ও তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে হবে। একইভাবে, কোনো জনপ্রতিনিধি, সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগই।

কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

কারণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কোনো বক্তব্যে তৈরি হয় না; তৈরি হয় তখনই, যখন একজন সাধারণ নাগরিক বিশ্বাস করতে পারেন—ক্ষমতার পরিচয় নয়, সত্য ও প্রমাণই শেষ পর্যন্ত আইনের ভিত্তি।

কাজী মামুনুর রহমান মাহিমঃ সাংবাদিক, আইন ও নীতি বিশ্লেষক এবং সমাজকর্মী।  


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


 
প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা
প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর দূরপাল্লা এবং মহানগরে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সড়ক ...
বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় ম্যানেজারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন
বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় ম্যানেজারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন
নরসিংদীতে বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) নামে দেশীয় মদের দোকানের ম্যানেজারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ...
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সোয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সোয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎ-মুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার ভেতরে থেকে দ্বিপক্ষীয় ...
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ স্থগিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপ স্থগিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত সংলাপ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৩ ...
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যা দিয়ে এর সব সদস্যকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ...
টাঙ্গাইলে লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী ইজিবাইক, দিনে খরচ ৩০ মেগাওয়াট
টাঙ্গাইলে লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী ইজিবাইক, দিনে খরচ ৩০ মেগাওয়াট
টাঙ্গাইলে চলমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা। জেলার ১২টি উপজেলায় চলাচলকারী প্রায় ৬০ ...
পুনরায় একই স্থানে বহাল হয়ে অলৌকিক ক্ষমতা দেখালেন প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন
পুনরায় একই স্থানে বহাল হয়ে অলৌকিক ক্ষমতা দেখালেন প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন
লক্ষ্মীপুর উন্নয়নকাজের বিল ছাড়াতে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন আদায়, অসম্পূর্ণ ভবনে ৩৩ কোটি টাকার শতভাগ বিল পরিশোধ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ ...
সীমান্তে উদ্ধার পথভ্রষ্ট কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করল বিজিবি
সীমান্তে উদ্ধার পথভ্রষ্ট কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করল বিজিবি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলা সাথী আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে নিরাপদ হস্তান্তর ...
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মানুষের ওপর জুলুম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মানুষের ওপর জুলুম
‘হঠাৎ করে কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়া জ¦ালানি তেলের মূল্য লিটার প্রতি ২০টাকা বৃদ্ধি সরকারী ঘোষণাকে আত্মঘাতী। কোন প্রকার প্রস্তুতি ...
১০
ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র: নিরাপত্তা শঙ্কা নাকি প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ?
ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র: নিরাপত্তা শঙ্কা নাকি প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ?
রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজকে কেন্দ্র করে মহাখালী এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অস্ত্রহাতে সেলফি ...
 
কালিহাতীতে ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে সরকারি চাল উদ্ধার,ব্যবসায়ী আটক
কালিহাতীতে ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে সরকারি চাল উদ্ধার,ব্যবসায়ী আটক
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ২১৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এসময় ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।সোমবার গভীর রাতে কালিহাতী ...
কালিহাতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
কালিহাতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কালিহাতী পাইলট বালিকা ...
টাঙ্গাইলে জেলা তাঁতীদল সভাপতির মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী টুকুর শোক
টাঙ্গাইলে জেলা তাঁতীদল সভাপতির মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী টুকুর শোক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি শাহ আলম (৭০) আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল ...
র‍্যাব থেকে এসআরবি : নাম পরিবর্তনই কি সমাধান ?
র‍্যাব থেকে এসআরবি : নাম পরিবর্তনই কি সমাধান ?
চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে 'র‌্যাব'কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর পরিবর্তে নতুন বাহিনী গঠনের ...
রাজধানীতে হঠাৎ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: প্রশাসনে তোলপাড়, অধরা মূল মাস্টারমাইন্ড রাব্বি
রাজধানীতে হঠাৎ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: প্রশাসনে তোলপাড়, অধরা মূল মাস্টারমাইন্ড রাব্বি
গত ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগের মুখে পড়েছে খোদ সরকারি দল ...
ঢাকা মহানগর উত্তর পেশাজীবী দলের ১০৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা
ঢাকা মহানগর উত্তর পেশাজীবী দলের ১০৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের ঢাকা মহানগর উত্তর এর ১০৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সাবেক সিনিয়র ...
টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভা
টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভা
টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ...
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে সাবেক ইউপি সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশনে সাবেক ইউপি সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত ফিলিং স্টেশন থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে ...
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। সোমবার প্রকাশিত ...
১০
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। দন্ডিত আসামী মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com