|
মাথায় আঘাতে অপ্রতিমের মৃত্যু হতে পারে : পুলিশ ও চিকিৎসক
নতুন বার্তা, কুমিল্লা:
|
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মাথায় গুরুতর আঘাত ও পুরো শরীরে বেশকিছু জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে।মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও চিকিৎসক। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন বলেন, অপ্রতিমের মরদেহের বিভিন্ন অংশে ছোট বড় কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে, শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আপাতত মাথার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছি। তবে তাকে শ্বাসরোধ করা হত্যা বা হত্যার আগে চেতনা নাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা এটা নিশ্চিত হতে শরীর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আপাতত এর বাইরে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য নেই। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুবির ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রথমে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করে। পরে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার ব্যবসায়ী বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসান বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের ডিবি ও এসআরবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা যাচ্ছে না। অপ্রতিমের পরিবার রবিবার মামলা করতে থানায় আসবেন। |