|
নাটকের গানে পরিচিত নাম এম এ আলম শুভ
বিনোদন প্রতিবেদক:
|
চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের আবেগকে সঙ্গে নিয়ে সৃজনশীলতার জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন গীতিকার ও লেখক **এম এ আলম শুভ**। কবিতা দিয়ে যাঁর পথচলা শুরু, সময়ের পরিক্রমায় তাঁর কলমে জন্ম নিয়েছে তিন শতাধিক গান। দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার শিল্পীদের কণ্ঠেও পৌঁছেছে তাঁর লেখা গান।চট্টগ্রামের সন্তান এম এ আলম শুভর লেখালেখির শুরু ২০০৯ সালে কবিতার মাধ্যমে। এরপর ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত গান লেখা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নাটকের গান হয়ে ওঠে তাঁর সৃষ্টিশীলতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। গল্পের আবেগ, চরিত্রের অনুভূতি কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবকিছুকে গানের কথায় তুলে ধরার নিজস্ব একটি ধরন তৈরি করেছেন তিনি। ### জনপ্রিয় শিল্পীদের কণ্ঠে শুভর গান এম এ আলম শুভর লেখা গান গেয়েছেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন **ইমরান, কনা, কোনাল, পড়শী, মিনার, আবন্তী সিথি**সহ আরও অনেকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, তাঁর লেখা গান পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গেও। কলকাতার **সারেগামাপা**-খ্যাত শিল্পী **অঙ্কিতা** ও **রাহুল দত্ত**সহ সেখানকার আরও শিল্পীর কণ্ঠে শোনা গেছে তাঁর লেখা গান। একজন গীতিকারের জন্য দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য বাংলার শিল্পীদের কণ্ঠে নিজের লেখা গান পৌঁছানো নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ### ‘একটা মনের মানুষ’ থেকে ‘দহন (ওরে মন)’ এম এ আলম শুভর লেখা বেশ কিছু গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে **‘একটা মনের মানুষ’**, **‘তার দেখা না পেয়ে’**, **‘একটা গল্প শোন’**, **‘চল পাখি হয়ে উড়ি’**, **‘দহন (ওরে মন)’**, **‘ভুল শেষে ভালোবেসে’**সহ অসংখ্য গান। তাঁর গানের কথায় বারবার ফিরে আসে ভালোবাসা, না-পাওয়া, বিচ্ছেদ, অভিমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের নানা অনুভূতি। সহজ-সরল শব্দের মধ্য দিয়ে আবেগকে গভীরভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা তাঁর গীতিকবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নাটকের গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গান নির্মাণেও রয়েছে তাঁর আলাদা মনোযোগ। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই গান শুধু নাটকের একটি অংশ হয়ে থাকেনি; বরং গল্পের আবেগকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। ### গান ছাড়িয়ে সাহিত্যেও গানের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এম এ আলম শুভ। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর উপন্যাস **‘নদীপারের প্রেম’**। ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ **‘বেদনার জ্যামিতি’**। অর্থাৎ কবিতা, গান ও সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের ভাবনাকে প্রকাশ করে চলেছেন তিনি। তাঁর সৃষ্টির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে মানুষের অনুভূতি ও সম্পর্কের গল্প। ### চট্টগ্রামের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা চট্টগ্রাম থেকে উঠে এসে ঢাকাকেন্দ্রিক নাট্য ও সংগীতাঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেওয়া এম এ আলম শুভর পথচলা স্থানীয় তরুণ সৃষ্টিশীলদের জন্যও অনুপ্রেরণার হতে পারে। কোনো বড় শহরের কেন্দ্র থেকে নয়, চট্টগ্রামের মাটি থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর লেখালেখির যাত্রা। আজ তাঁর লেখা গান গাইছেন দেশের পরিচিত শিল্পীরা; পাশাপাশি কলকাতার শিল্পীদের কণ্ঠেও পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর সৃষ্টি। তিন শতাধিক গানের এই দীর্ঘ যাত্রা তাই শুধু একজন গীতিকারের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়—এটি চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা একজন সৃষ্টিশীল মানুষের নিজের জায়গা তৈরি করে নেওয়ার গল্পও। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আরও ভালো গান ও সাহিত্যকর্ম উপহার দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এম এ আলম শুভ। তাঁর কাছে গান শুধু কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়; বরং মানুষের অনুভূতিকে ছুঁয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যম। **চট্টগ্রামের ছেলে এম এ আলম শুভ—কলমে যাঁর গল্প, আর সেই গল্পই কখনো গান হয়ে পৌঁছে যায় হাজারো শ্রোতার হৃদয়ে।** |