|
শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটে ধুঁকছে রৌমারী সরকারি কলেজ
বেলাল হোসেন, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
|
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ 'রৌমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজ'। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এ কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাজারো শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটে ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থা।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অডিটের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৬৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। কিন্তু জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার কারণে ২০১৫ সালের ১৬ জুনের পর থেকে নতুন কোনো নিয়োগ চালু হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট কলেজটি সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। ওই সময় গেজেটে ৪৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী (২৮ জন শিক্ষক, ৪ জন প্রদর্শক ও ১২ জন অফিস সহায়ক) অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে সেই সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে কমে বর্তমানে মাত্র ১১ জন শিক্ষক, ২ জন প্রদর্শক ও ৬ জন কর্মচারীতে নেমে এসেছে। সূত্রমতে, ২০২৬ সালের শেষে আরও দুজন শিক্ষক ও একজন প্রদর্শক অবসরে (পিআরএল) যাবেন, যা সংকটকে আরও মারাত্মক করে তুলবে। শিক্ষক ছাড়াই চলছে পাঠদান: কলেজটিতে বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এ বিভাগে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইতিহাস, কৃষি শিক্ষা, আইসিটি এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগেও কোনো শিক্ষক নেই। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে দুজন শিক্ষক থাকলেও বাকি বিষয়গুলোতে মাত্র একজন করে শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান। দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারণ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং হিসাবরক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি। সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অত্যাবশ্যকীয় ফি আদায় করে অস্থায়ী লোক দিয়ে অফিস ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হচ্ছে। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, "বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক নেই। আমাদের বাইরের কলেজের শিক্ষকদের কাছে বা প্রাইভেটে পড়তে হয়। অনেকে রংপুর-ঢাকায় গিয়ে কোচিং করে। কলেজে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা রয়েছে, সাধারণ কাজের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।" একই দুর্ভোগের কথা জানান আ. মতিন, মোহাম্মদ নাফিস, বিজয়, সুলতানা পারভীন ও ফেরদৌসী আক্তারসহ বহু শিক্ষার্থী। রৌমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদ রেজাউল কবির প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, "অফিস পরিচালনার জন্য কোনো স্থায়ী জনবল নেই। বাধ্য হয়ে বহিরাগত কর্মচারী দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। শিক্ষক ও কর্মচারীর অভাবে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি কলেজের বিষয়টি সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেখভাল করে। তবে সম্প্রতি রংপুর অঞ্চলকে কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ বলেন, "সরকার সংকট নিরসনে কাজ করছে। কয়েকটা বিসিএস প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এগুলো সম্পন্ন হলে শিক্ষক স্বল্পতা কেটে যাবে। ইতোমধ্যে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের পদায়ন ও বদলির আদেশ জারি হয়েছে। সেক্ষেত্রে রৌমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পঠন-পাঠন স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। |