|
একই দিনে দুই পরিবারের শোক: বজ্রপাতে গৃহবধূ ও পুকুরে ডুবে কৃষকের মৃত্যু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের দুটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ, আর মাঠে যাওয়ার পথে পুকুরে ডুবে মারা গেছেন এক কৃষক।সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে পৃথক এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন খায়রুন্নেছা (৪০)। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, বাড়ির পাশেই কৃষিকাজ করছিলেন খায়রুন্নেছা। আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। ইউপি সদস্য কমলা রাণী জানান, খাযরুন্নেছার দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে, সোমবার সকাল বেলা ১১টার দিকে ধুমঘাটের শীলতলা গ্রামে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। কৃষক কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার পথে অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় তিনি বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে কৃষ্ণপদ পুকরে পড়ে পানিতে ডুবে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতোই কৃষ্ণপদ সকালে মাঠের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। কিন্তু জীবিত আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ -ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই দুর্ঘটনায় ধুমঘাট এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। দুই পরিবারের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের বাতাস। |