|
চুরির টাকায় বিলাসী জীবন! রাম মন্দির চুরিকাণ্ডে নয়া মোড়
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ভাবতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থপাচারের উৎস খুঁজতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে পুলিশ। এই মামলার মূল আট অভিযুক্তের বাড়িতে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি স্বাধীন সাক্ষী দল সাথে নিয়ে পুলিশ এই তল্লাশি শুরু করে। গত সপ্তাহে সিসিটিভি ফুটেজে চুরির প্রমাণ পাওয়ার পর মন্দিরের টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত এই আট কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রাম শঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব। তারা সবাই মন্দিরের দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া নগদ টাকা গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। দুই দিন আগে একটি স্থানীয় আদালত তাদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। আগামীকাল তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করে হেফাজতে নেওয়ার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত চার বছরে অভিযুক্তরা কী পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেছেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের জমি, গহনা এবং ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, অভিযুক্তদের প্রতিবেশীদের থেকেও তাদের হঠাৎ বদলে যাওয়া আর্থিক অবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোনো গাড়ি বা নতুন সম্পত্তি কেনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযান চলাকালীন তিন্নু ও মনীশ যাদবের পরিবার পুলিশকে সহযোগিতা করেনি বলে জানা গেছে। তবে অন্য এক অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রের খালা নেহা মিশ্র পুলিশকে জানিয়েছেন যে আগে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই সাধারণ ছিল। কিন্তু অনুকল্প রাম মন্দির ট্রাস্টে কাজ শুরু করার পর থেকেই তাদের জীবনযাত্রায় এক নাটকীয় ও আকস্মিক পরিবর্তন আসে। এই চুরির ঘটনায় মন্দিরের হিসাব থেকে আনুমানিক ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আজকের অভিযানে নতুন করে কোনো অর্থ উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই চুরির মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরির ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি। |