|
বৈধ দলিল, সিটি জরিপ ও নামজারি থাকলেও খাজনা গ্রহণ বন্ধ: অনিশ্চয়তায় মহাখালী ওয়্যারলেস গেইটের হাজারো পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
|
রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার "জ" ব্লকের বেশ কিছু বাড়ির জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈধ দলিল, সিটি জরিপ (সিএস/এসএ/আরএস/সিটি জরিপ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড) এবং নামজারি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে খাজনা গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাটির হাজারো পরিবার।ভুক্তভোগীদের দাবি, বছরের পর বছর নিয়মিতভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার পর কোনো পূর্বঘোষণা বা লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু হোল্ডিং নম্বরের খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজেদের মালিকানা ও জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এলাকার হোল্ডিং নম্বর ১৬১-এর এক মালিক জানান, তিনি ১৪১৬ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এরপর থেকে ভূমি অফিস তার খাজনা গ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, “আমার জমির বৈধ দলিল রয়েছে, নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে। এত বছর খাজনা দিয়েছি। হঠাৎ করে কেন খাজনা নিচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে না। বিভিন্ন সময় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাইনি।” একই ধরনের অভিযোগ করেছেন এলাকাটির আরও কয়েকজন জমির মালিক। তাদের ভাষ্য, খাজনা গ্রহণ না করায় ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, খাজনা পরিশোধের সুযোগ না থাকলে সরকারি নথিপত্র হালনাগাদ রাখা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তবে খাজনা গ্রহণ বন্ধের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাননি। ফলে প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুলশান ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু হোল্ডিংয়ের খাজনা গ্রহণ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, “কিছু ব্যক্তি বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে কয়েকটি নির্দিষ্ট হোল্ডিংয়ের খাজনা গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।” তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং খাজনা গ্রহণ বন্ধের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ মালিকানা, নামজারি ও পূর্ববর্তী কর পরিশোধের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও খাজনা গ্রহণ বন্ধ থাকলে তার কারণ লিখিতভাবে জানানো উচিত। অন্যথায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। এলাকাবাসীর দাবি, খাজনা গ্রহণ বন্ধের পেছনে যদি কোনো প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে। আর যদি কোনো অনিয়ম বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ থেকে থাকে, তবে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো পরিবার। |