|
গেন্ডারিয়ায় পাগলকে মারধরে বাধা দেওয়ার ক্ষোভে হত্যা করা হয় মান্নানকে: র্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা :
|
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আব্দুল মান্নান (৩০) নামে এক যুবককে হত্যার নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা এবং একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধরে বাধা দেওয়ার ঘটনা ছিল বলে দাবি করেছে র্যাব। র্যাব বলছে, ঘটনার দিন কয়েকজনকে ওই ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখে বাধা দেওয়ায় মান্নানের সঙ্গে আসামিদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সোমবার (৮ জুন) বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এস এম হাসান সিদ্দিকী সুমন। র্যাব জানায়, গত ঈদুল আজহার প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিহত আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বন্ধু ও মামলার প্রধান আসামি মো. রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘা (২৭)-এর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে গত রবিবার দুপুরে মীর হাজিরবাগ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল দুপুরের খাবার খেতে মেসে যাওয়ার পথে মান্নান দেখতে পান রাজন দেওয়ান সুমনসহ কয়েকজন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মারধর করছেন। তিনি তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্বশত্রুতার জেরে রাজন দেওয়ান সুমন মান্নানকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে গেন্ডারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০-এর সহযোগিতা চান। র্যাব জানায়, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। |