|
আগৈলঝাড়ায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক: প্রশাসনের তেমন ভূমিকা নেই
অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
|
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যেকোন ধরণের মাদকদ্রব্য। প্রশাসন তৎপর না থাকায় বর্তমানে উপজেলার এই হাল বলে জানান সচেতন মহল। স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান এখন আর আগের মতো সক্রিয় নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে অবাধে চলছে মাদক কারবারীদের রমরমা ব্যবসা। মাদকের করাল গ্রাসে আসক্ত হয়ে পরেছে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর হাজার হাজার তরুণ ও যুবক। এই তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সী যুবসমাজ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এতে উপজেলা জুড়ে মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছেন অভিভাবক মহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় আগৈলঝাড়ায় ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদের ব্যবসা করতো গুটিকয়েক মাদক ব্যবসায়ী। তাও বেচাকেনা হতো খুব গোপনে। এখন গাঁজা-মদের পাশাপাশি চলছে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেটের রমরমা ব্যবসা। যা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে কতিপয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, এসব ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরেছেন উপজেলার প্রভাবশালী পরিবারের অনেক তরুণ ও জনপ্রতিনিধি। যাদের প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয়রাও ভয়ে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারছেন না। ফলে উপজেলাতে এখন অবাধে চলছে মাদক কেনাবেচা। মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা কিছুটা বিত্তশালী তারাই ফেনসিডিলের দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন। অপরদিকে ইয়াবা ও গাঁজা’র দাম তুলণামূলক কম হওয়ায় এ দু’টি মাদকের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। উপজেলা সদরের পেট্রল পাম্প সংলগ্ন, সুজনকাঠী, অশোকসেন, রাহুৎপাড়া, পয়সারহাট, বড় বাশাইল, নিমতলা, আস্করসহ রাজিহার, গৈলা, রত্নপুর, বাগধা, বাকাল ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হয় মাদক। মুদী দোকান, চায়ের দোকানসহ এসব এলাকা নীরব ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন স্পটে ফেরি করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক বা ভ্যানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতাদের দেখা যায়। এছাড়াও উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক স্পটে প্রকাশ্যেই মাদকের ব্যবসা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে উপজেলা বাইপাস পেট্রল পাম্প সংলগ্ন স্থান, হেলিপোর্টসহ বিভিন্ন স্পটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। বর্তমানে উপজেলা জুড়ে মাদকের অভয়ারণ্য বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। এই উপজেলায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। মূলত: প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির টাকায় কেনা হয় মাদক। আর ডেলিভারি ম্যানের সাহায্যে এসব মাদক বিক্রি হয় ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে। স্থানীয় আবুল পাইক জানান, বর্তমানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সবাই অল্পবয়সী। মাদকের ভয়াল নেশার ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের যুবসমাজ। ধ্বংস হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। নতুন নতুন এসব মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে বাড়ছে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ কওে চলছে মাদক ব্যবসা। নামেমাত্র অভিযান চালাচ্ছেন পুলিশ প্রশাসন। আবার যখন অভিযান চালাচ্ছে তখন সাধারণ মানুষকে সেখানে থাকতে দিচ্ছেনা। পরে কয়েক ঘন্টা বাদে পুলিশ জানায় অভিযানে কোন মাদক পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহম্মেদ পান্না জানান, মাদক নির্মূলের জন্য জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা চাই প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন। পাশাপাশি সামাজিকভাবে মাদক নির্মূলের জন্য সকলে ঐক্যমত পোষণ করে কাজ করতে পারলেই মাদক নির্মূল করা যাবে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানকে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নিা। এবিষয়ে গৌরনদী সার্কেল এএসপি আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিন জানান, গত মাসেও আগৈলঝাড়া থানায় ১১টি মাদক মামলা হয়েছে। তবে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় উপজেলা মাদক প্রবণ এরিয়া হয়ে গেছে। এটার জন্য সাংবাদিকসহ জনসাধারণের কাজে করতে হবে। শুধু পুলিশ এককভাবে পারবে না। জনসচেতনা বৃদ্ধিসহ সকলের সক্রিয় ভূমিকাসহ আমাদেরও কাজে লাগতে হবে। |