|
ঈদ ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছক পুলিশের: যানজটপ্রবণ ২০৭ সড়ক চিহ্নিত
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছক প্রণয়ন করেছে পুলিশ। এই ছকে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তায় যেন মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সারা দেশে যানজটপ্রবণ ২০৭টি স্থান এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।এগুলোর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫০টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কে ৪৫টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি করে, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কের নয়টি এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কের ছয়টি স্থান রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কড়া বার্তা, কোনোভাবেই এসব যানজট সহ্য করা হবে না। রোববার এক জুম মিটিংয়ে সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এ বার্তা দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ওই মিটিংয়ে সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। এদিকে ঈদের ছুটিতে যারা রাজধানী ছাড়বেন তাদের উদ্দেশে ডিএমপির পরামর্শ- ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যান। ঢাকায় কারও আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে মূল্যবান জিনিস থানায়ও রাখা যেতে পারে। রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা এবং ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এ পরামর্শ দেন। জুম মিটিংয়ে আইজিপি বলেছেন, সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে যাত্রীবাহী বা পণ্যবাহী যানবাহন থামানো যাবে না। পাশাপাশি চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে হবে। মহাসড়কে বন্ধ করতে হবে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডিউটি করার সময় পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। বেপরোয়া গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করতে আজ থেকে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের মাঠে নামাবেন বলেও তিনি জানান। বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণেও রাস্তায় যানজট হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে রেকার প্রস্তুত রাখতে হবে, যাতে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত অপসারণ করা যায়। সংবাদ সম্মলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদ সামনে রেখে নগরবাসীর যাত্রা নির্বিঘ্ন করাসহ ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে বাসা ছাড়ার আগে দরজা-জানালা ঠিকমতো বন্ধ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বাসাবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পুরোনো ক্যামেরা সচল রাখার আহ্বান জানান মো. সরওয়ার। রাতের বেলায় বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেন তিনি। ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। রাজধানীতে প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফুট প্যাট্রোল চলছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তিনি বলেন-ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চলছে। ঈদের দিন থেকে কয়েক দিন ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ঠেকাতে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আবদুল্লাহপুর ও গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ছুটির সময় পাড়া-মহল্লায় কোনো সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। রাতে ছিনতাইকারী, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অপরাধপ্রবণ এলাকায় নির্মিত ব্লক রেইড পরিচালনার মতো বিশেষ অভিযানগুলো চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াত টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, নগরবাসী যাতে বাসায় গিয়ে ইফতার করার সুযোগ পান, সেজন্য রোজায় নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে গেয়েদা পুলিশ। এছাড়া লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে, সেজন্য ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি। ঢাকার বহির্গমন সড়কগুলোর মধ্যে আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড, আমিনবাজার, মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতীবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ বা গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজ সড়ক এবং প্রয়োজন না থাকলে ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা ওভার স্পিডিং রোধ করতে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা সরওয়ার বলেন, আমাদের ক্রাইমপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন তিনশর মোটরসাইকেল এবং গাড়িতে মোবাইল প্যাট্রোল চলছে। রাতের বেলা সত্তরের উপরে চেকপোস্ট আছে। ফুট প্যাট্রোল অজস্র আছে। অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করে এলাকাগুলো কন্ট্রোল করা হচ্ছে। নাগরিকদের উদ্দেশে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজ হেফাজতে রাখার জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। ঈদের আগে ও পরে ৩ দিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে। যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ করিম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। |