|
ভ্রমণকারীদের বাড়তি অর্থ ও সময় নষ্ট করে যে ১১ ভুল
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
প্রায় সবাই ভ্রমণের সময় সুপরিচিত কিছু ভুলের মুখোমুখি হন। ফলে আনন্দমুখর ভ্রমণ অনেক সময় মন খারাপ কিংবা বিশাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ভুলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট, ফ্লাইট মিস করা, অ্যাডাপ্টার ভুলে যাওয়া। কিন্তু যে ভুলগুলো সত্যিই ব্যথা দেয়? সেগুলো হলো নীরব, চতুর্প্রহরী ভুল। একজন ঘন ঘন ভ্রমণকারী হয়েও অনেকে এসব ভুল করেন প্রতিনিয়তই। এরকম ১১টি ভুলের বিষয় তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।১. ভুল টার্মিনাল থেকে গাড়ি বুক করা এটি একটি ব্যক্তিগত হল-অফ-ফেম মুহূর্ত। একই বিমানবন্দরের ভিন্ন টার্মিনালে গাড়ি বুক করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। মিলানের মালপেনসা বিমানবন্দরে এক টার্মিনালের বদলে অন্য টার্মিনাল থেকে গাড়ি বুক করে ফেলেন অনেকে। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত গাড়ি না পেয়ে বেশি দামের গাড়ি নিতে হয় বাধ্য হয়ে। তাই টার্মিনাল, বিমানবন্দর ও শহরের নাম ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। ২. বুক করার আগে হোটেল বা রেন্টালের ওয়াইফাই আছে কিনা যাচাই না করা রিমোট কাজের ক্ষেত্রে “আকর্ষণীয় গ্রামীণ কটেজ” হঠাৎ করে হয়ে যেতে পারে দুর্বল নেটওয়ার্ক আর ফোনের হটস্পটে ঝুলে থাকা জুম কল। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মতো ওয়াইফাই আছে কিনা কিংবা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়াও জরুরি। “আধুনিক সুযোগ–সুবিধা” লেখা থাকলেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট আছে—এমন ধরে নেয়া ভুল। ৩. একাধিক প্ল্যাটফর্মে হোটেলের দামের তুলনা না করা একই হোটেল ও একই রুম কিন্তু ভিন্ন দামে বুক করা হয়। অনেক সময় বড় ট্রাভেল ওয়েবসাইটে বুক করার পর জানা যায়, হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একই রুম ২০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যেত, সঙ্গে ফ্রি ব্রেকফাস্ট। সরাসরি বুক করলে অনেক সময় সুবিধাও বেশি মেলে। তাই অন্তত তিনটি উৎস চেক করুন। ৪. হোটেল ভ্রমণের শহরেই কিনা তা নিশ্চিত না হওয়া এটা জোকসের মতো শোনাতে পারে, কিন্তু যখন হয় তখন খুবই বিরক্তিকর মনে হয়। তাই এটি শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব। এক ব্যবসায়িক সফরে একই নামের হোটেল বুক করা হয়েছিল- কিন্তু অন্য শহরে। গন্তব্যে পৌঁছে দেখা গেল, বুকিংয়ের কোনো রেকর্ডই নেই। তাই সর্বদা ঠিক ঠিকানা চেক করুন। ৫. দীর্ঘ ফ্লাইটে সিট নির্বাচন না করা এয়ারলাইন্সকে সিট বাছাই করতে দিলে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। মাঝের সিট, টয়লেটের পাশে বা গ্যালির সামনে- সবই হতে পারে। স্বল্প সময়ের ফ্লাইট সহনীয় হলেও দীর্ঘ ভ্রমণে এটি ভ্রমণের মান পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দিয়ে হলেও সিট বেছে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ৬. বিজনেস ক্লাস না নেয়া দীর্ঘ ১২–১৪ ঘণ্টার ফ্লাইটে ইকোনমিতে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়া খুব পরিচিত অভিজ্ঞতা। সবকিছুর জন্য বাজেট থাকলেও শুধু ফ্লাইটে কৃপণতা করলে পুরো ভ্রমণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামর্থ্য থাকলে এটি বিলাসিতা নয়, বরং কৌশলী সিদ্ধান্ত। ৭. ই–রিডারের বদলে কাগজের বই বহন করা চারটি বই নিয়ে দুই সপ্তাহের সফরে ব্যাগ যেন ছোট লাইব্রেরি হয়ে যায়। কিন্তু ই–রিডারেই শত শত বই রাখা যায়, ওজন প্রায় নেই বললেই চলে। কাঁধ ব্যথা থেকে মুক্তি পেতেও এটি কার্যকর। ৮. বিমানবন্দরে মুদ্রা বদলানো এয়ারপোর্টের এক্সচেঞ্জ বুথের রেট সবচেয়ে খারাপ। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো—দেশে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া, অথবা গন্তব্যে পৌঁছে এটিএম থেকে টাকা তোলা। ৯. ট্র্যাভেল ইনস্যুরেন্স না নেয়া ভ্রমণের সব সময়ই ভালো কাটে, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো বিপদ ঘটে। বেশিরভাগ ট্রিপ ঠিক থাকলেও কখনো কখনো মেডিকেল ইমার্জেন্সি, দুর্ঘটনা, ফ্লাইট বাতিল বা লাগেজ চুরির মতো একটি ঘটনায় পুরো সফর নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ইনস্যুরেন্স না করা মানে বড় ঝুঁকি নেয়া। ১০. ডেটা রোমিং সমস্যার প্রতি অবহেলা করা নতুন দেশে নেমে ইন্টারনেট ছাড়া আপনি অচল বলা চলে। বিশেষ করে জায়গা চেনার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি সমস্যা হয়, কারণ অফলাইন ম্যাপ নেই। ফলে বিমানবন্দর থেকে বেড়িয়ে গন্তব্যের অবস্থান, দূরত্ব এবং কীভাবে যাওয়া যাবে তা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া অফলাইনে বাস বা ট্রেন ধরাও কঠিন। এজন্য আন্তর্জাতিক ডাটা প্ল্যান, ই-সিম অথবা অন্তত অফলাইন ম্যাপ আগে থেকেই সেট করে নেয়া উচিত। ১১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চেকড লাগেজে রাখা এয়ারলাইন অনেক সময় লাগেজ হারায়- এটা বাস্তব। তাই ওষুধ, জরুরি কাগজপত্র, টাকা, মূল্যবান জিনিস বা প্রথম দিনের প্রয়োজনীয় পোশাক কখনোই চেকড ব্যাগে রাখা উচিত নয়। সূত্র: বাউন্ডলেস রোড |