/ মতামত / সড়কে আর কত মৃত্যুর মিছিল?
সড়কে আর কত মৃত্যুর মিছিল?
হাসান হামিদ:
Published : Sunday, 7 November, 2021 at 6:29 PM
সড়কে আর কত মৃত্যুর মিছিল?অনেক দিন থেকেই দেখছি, আমাদের সড়ক-মহাসড়কের সর্বত্রই চলছে মৃত্যুর মহোৎসব। একের পর এক  তাজা প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই কি দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোয়  প্রাণনাশের বিভীষিকা চলতে থাকবে? প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। আর এভাবে থমকে যাচ্ছে বহু পরিবার। এর ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায় পঙ্গু হাসপাতালে গেলে। যে সমস্ত লোক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে অথবা পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে তাদের পরিবারের খবর আমরা কয়জন রাখি! সমাজের অনেক সচেতন মানুষ এসব দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রানের পথ খোজার চেষ্টা করছে। কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ সঠিক ভাবে নিলে এসব দুর্ঘটনা আরও কমে আসতো। দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। অবস্থা ‘মহামারী’ আকার ধারণ করেছে বললেও অত্যুক্তি হবে না। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর থাকছে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও অনেক। এর প্রতিকার কতোখানি জরুরি হয়ে পড়েছে তা সবাই বুঝেন; কিন্তু এই সচেতনতা আমাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে না।
প্রতিবার দুর্ঘটনার পর পরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোনদিন আলোর মুখ দেখে না। আর সঙ্গত কারণেই দোষীদের শাস্তিও হয় না। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ- যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন, কোন একটি ঘটনার বিচার হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত মেলা ভার। আর বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোন কিছু চলতে থাকলে সেটির পুনরাবৃত্তিও তো ঘটবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কত প্রাণ গেলে, মৃত্যুর মিছিল কত দীর্ঘ হলে তবে থামবে এই হত্যাযজ্ঞ?
আমরা অনেকেই হয়তো জানি না যে, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৪ জন নিহত হয়৷ আর এই সংখ্যা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ৷ সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে৷ ‘বাংলাদেশ হেলথ ইনজুরি সার্ভে (বিএইচআইএস)' শিরোনামে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়৷ তাতে দেখা যায়, প্রতি বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ হাজার ১৬৬ জন নিহত হন৷ আর তাতে প্রতিদিন গড়ে নিহতের সংখ্যা ৬৪ জন৷ আরও এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বিগত ৬ বছরে সারা দেশে ৩১ হাজার ৭৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ হাজার ৮৫৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯১ হাজার ৩৫৮ জন। এ ছাড়া ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণে বছরব্যাপী লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। (তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদন, ২০২১)
এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এখন অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সঙ্গতকারণেই এই সমস্যা থেকে মানুষজনকে মুক্ত রাখার সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
ভয়াবহ ব্যাপার হলো, ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণে বছরব্যাপী লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও ৪ হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত ও ৮ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন। এবার আসি আর্থিক ক্ষতির ব্যাপারে। ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা আমাদের জিডিপির দেড় শতাংশ। ২০২০ সালে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটেছে তার অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।
আমাদের দেশে এত বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে যে, দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ বাহিনী গঠনের দাবি জানানোর সময় হয়েছে। দেশে সন্ত্রাস দমনে যদি র‍্যাব বাহিনী গঠন করা যায়, দুর্ঘটনা রোধে এ-জাতীয় বাহিনী নয় কেন? সব জায়গা থেকে বলা হচ্ছে, কোনোভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর করা যাচ্ছে না। আমাদের দেশের গাড়িচালকের সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেক করাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাচ্ছে। আর এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমাদের দেশে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। বাংলাদেশের ওপর আছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। কিন্তু দেশগুলোয় যানবাহনের সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩৩ যানবাহন রয়েছে, চীনে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে ১৮ হাজার, ভারতে প্রায় ১৩ হাজার আর পাকিস্তানে পাঁচ হাজার। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি দুজনে একটি করে যানবাহন রয়েছে। অথচ এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেশি।
দুর্ঘটনার কারণগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলেই কমবেশি জানেন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশে সড়ক অবকাঠামো এবং স্থলভাগের আয়তন অনুপাতে জনসংখ্যার চাপ বেশি। সড়কের তুলনায় মোটরযানের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। একই সড়কে চলছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, রিকশাসহ নানা রকম মিশ্র যানবাহন। উপরন্তু সড়ক ও মহাসড়কগুলো ত্রুটিপূর্ণ। দেশব্যাপী মহাসড়কের অনেক স্থানেই রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁকের কারণে প্রায়শই সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া অবকাঠামোগত কারণেও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি খুব বেশি বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি দুর্ঘটনা মহামারীর আকার ধারণ করার জন্য যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। এই সমস্যা বার বার চিহ্নিত হলেও এর কোন প্রতিকার নেই।
আমাদের দেশের বেশীরভাগ চালক লেখাপড়া জানে না, তাদের রোড সাইন সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নেই। গাড়ী চালানোর সময় কোথায় ওভারটেক করা যাবে এবং কোথায় যাবে না সে বিষয়ে তাদের কোন ধারনা নেই। সড়ক দুর্ঘটনার আরো একটি অন্যতম কারন পথচারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা।  রাস্তা পারাপারের জন্য ট্রাফিক আইন হলো- আপনি প্রথমে ডানে তারপর বামে এবং সর্বশেষ ডানে তাকিয়ে রাস্তা পার হবেন। পথচারীরা রাস্তায় চলার সময় ডান পার্শ¦ দিয়ে চলার কথা। অথচ আমাদের দেশের বেশীর ভাগ লোক এই চলার নিয়মটা জানে না। দেখা যায় বেশীর ভাগ পথচারী বাম পার্শ্ব দিয়ে চলে এবং আমাদের দেশের ট্রাফিক আইন অনুসারে গাড়ী ও বাম পার্শ¦ দিয়ে চলে ফলে পিছন থেকে আগত গাড়ী গুলো কোন কারনে বাম পার্শ্বে সরে যাওয়া প্রয়োজন হলে পথচারী দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। পথ চলার নিয়মগুলো প্রাইমারী স্কুলে কাস ওয়ান থেকে শেখানো প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
দুর্ঘটনার আরো একটি অন্যতম কারণ হলো ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ী চালনা। একজন চালকের কোন অবস্থাতেই একটানা ০৫ ঘন্টার উপর গাড়ী চালানো নিষেধ। অথচ আমাদের দেশের বাস এবং ট্রাকের চালকরা একটানা ১৫/১৬ ঘন্টা গাড়ী চালাচ্ছে। বিশ্রাম ব্যতিত কান্ত অবস্থায় গাড়ী চালানোর ফলে তাদের চোখে অনেক সময় ঘুম চলে আসে। ফলে ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা।  সড়ক দুর্ঘটনার আরো একটি অন্যতম কারন হাইওয়েতে বেবী ট্যাক্সি, অটো রিকশা ও টেম্পু চালনা। এ ছাড়া মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, স্যালো ইঞ্জিন চালিত গাড়ী চালানোর ফলে বর্তমান সবচেয়ে বেশী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কঠোর হস্তে হাইওয়েতে এ ধরনের গাড়ী চলাচল বন্ধ হওয়া জরুরী।
বর্তমানে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজ হেলমেট বিহীন বিশেষ স্টাইলে লুকিং গ্লাস ব্যতীত দ্রুতগতিতে অধিক সিসি যুক্ত মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। ফলে ঘটে যাচেছ মারত্মক দুর্ঘটনা। অনেক মা-বাবা হারাচ্ছে তাদের প্রিয় সন্তানদের। বুয়েটের গবেষণা বলছে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছরের নিচে তরুণ প্রজন্মের মৃত্যুহার বেশি। কারণ তরুণদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। গবেষণা বলছে, মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার পরিমাণ ২০১৯ সালে ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। সেটা এখন ২৩ শতাংশে চলে গেছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্যান্সারের সেলের মতো এই যানের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ২০১৬ সালে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল আট লাখ ২০২০ সালে, সেটা ৩২ লাখে দাঁড়িয়েছে। চার বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে।
মহাসড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ চালকদের বেপরোয়া, অতিরিক্ত গতি এবং ইচ্ছামত যেখানে সেখানে ওভার টেক করা। যেহেতু বেশীর ভাগ দুর্ঘটনা ঘটায় বাস এবং ট্রাক। তাদের বেপরোয়া খামখেয়ালী এবং ওভার টেকিং এর কারনে বেশীর ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই প্রতিটি বাসে বি,আর,টি এ কৃর্তক বাস এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৬০-৭০ কি.মি. নির্ধারণ করে দিয়ে স্পীড লিমিট গভর্নর সীল সংযুক্ত করে দিলে একজন চালক ইচ্ছামত নির্ধারিত গতির অধিক গতিতে গাড়ী চালাতে পারবে না। এটা এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে। চালক পরবর্তীতে এই সীল পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে অবশ্যই গাড়ী আটকের মাধ্যমে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে। আর যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ চালক নিজে। তাই তাদের নিয়ন্ত্রন করার জন্য জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশকে পর্যাপ্ত স্পীড ডিটেক্টর সরবরাহ করা যেতে পারে।
স্পীড ডিটেক্টর সম্পর্কে আমাদের আনেকের ধারনা নেই। এটা দেখতে অনেকটা মুভি ক্যামেরার মত। একজন পুলিশ সদস্য কোন গাছের আড়ালে দাড়িয়ে গাড়ীর গতি স্পীড ডিটেক্টরের মাধ্যমে সনাক্ত করে আগে থেকে নির্ধারিত সামনের টিমকে ওয়াকি টকির মাধ্যমে অবহিত করে সেই গাড়ীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দিলে চালক গাড়ী চালনার সময় সতর্ক থাকবে। কারন তখন প্রতিটি চালক মনে করবে অতিরিক্ত গতির কারনে যে কোন সময় মহাসড়কে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তখন সে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাবে না। এই টিমের সঙ্গে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট থাকতে পারে। মহাসড়কে চালক অপরাধ করলে নগদ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা রেখে একটা টিমকে ৩০ কি.মি. এলাকা নির্ধারন করে দিলে এবং তারা স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত প্রসিকিউশন দ্বারা নগদ জরিমানা আদায় অব্যাহত রাখলে চালকরা বেপরোয়া ও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালাতে সাহস পাবে না।
সড়ক দুর্ঘটনা হয় না এমন দেশ নেই।উন্নত দেশগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যেসব পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা খুবই সুনির্দিষ্ট হয়। কিন্তু বাংলাদেশে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দায়সারা গোছের। কত বছরে কী পরিমাণ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো হবে, কীভাবে তা অর্জিত হবে, কারা তা সফল করবে সেটাও ভেবে দেখা দরকার। দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি যত কমিয়ে আনা যায় সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভাল যান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, সড়ক ব্যবস্থা উন্নতকরণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিক ও যুগোপযোগী করার বিষয়গুলো তো রয়েছেই। এর সঙ্গে দুর্ঘটনায় পতিতদের ত্বরিত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় আইনি জটিলতার কারণে আহতদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা হয়। এ সমস্যাটি সমাধানেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গাড়ির চালক, মালিকপসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মানুষ সচেতন না হবে ততক্ষণ সড়ক দুর্ঘটনা আইন করে রোধ করা যাবে না। সবার আগে আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, ওই পরিবারকে আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে। কোন কোন দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়।দুর্ঘটনার কারণে একদিকে চলে যায় মানুষের প্রাণ আর অপরদিকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংশ্লিষ্ট সবাই। তাছাড়া নষ্ট হয় দেশের সম্পদ। একটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকগুলো চোখ সারা জীবন ধরে কেঁদে চলে। টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ার সাথে, গড়িয়ে পড়ে সুখ আর জীবনের সব হাসি।



হাসান হামিদ: কবি ও গবেষক



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
 
বেনজীর আহমেদকে কি ফেরানো সম্ভব, কী বলছে দুই দেশের চুক্তি
বেনজীর আহমেদকে কি ফেরানো সম্ভব, কী বলছে দুই দেশের চুক্তি
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার ...
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাংলাদেশি যুবক নিহত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মাফল। তিনি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা ...
ব্রাজিলকে স্মরণ করিয়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি
ব্রাজিলকে স্মরণ করিয়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি
বিশ্বকাপ অভিষেকেই মাত্র ২১ মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েছিল কুরাসাও। গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। ...
পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার
পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আগের নীতি পেছনে ফেলে এবার সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর নজরদারির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত ...
বাড়ছে আতঙ্ক-ভয়: দুয়ারে ডেঙ্গু মৌসুম, গতানুগতিক কার্যক্রমে আটকা মশক নিধন
বাড়ছে আতঙ্ক-ভয়: দুয়ারে ডেঙ্গু মৌসুম, গতানুগতিক কার্যক্রমে আটকা মশক নিধন
দেশে বর্ষাকাল সমাগত। আর বর্ষা মানেই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের আদর্শ সময়। এই মৌসুমে এডিস মশার বিস্তারের জন্য ...
আবাসন খাতে ‘কালো টাকা’ বৈধ করার সুযোগ, বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা
আবাসন খাতে ‘কালো টাকা’ বৈধ করার সুযোগ, বৈষম্য বাড়ার শঙ্কা
দেশে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নগরায়ণের ফলে আবাসন খাতে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ...
লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবে ‘কড়া জবাব’ আসছে, হুঁশিয়ারি ইরানের
লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবে ‘কড়া জবাব’ আসছে, হুঁশিয়ারি ইরানের
লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলার পর এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি ‘কড়া জবাব’ আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় ...
জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের
জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের
জয় দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পরাজিত করে নেদারল্যান্ডসকে।রোববার ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এজবাস্টনে প্রথমে ...
রিজার্ভ বেড়ে সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
রিজার্ভ বেড়ে সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে সাড়ে ...
১০
ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাল বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসাল বাংলাদেশ ব্যাংক
আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক ...
 
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ এর ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসক শরীফা হক । ...
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য
সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থা একটি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ...
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা উপজেলার সল্লা এলাকায় সোমবার(৮ জুন) সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মুক্তা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর ...
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে গণদাবি উপেক্ষা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। এবার বৃদ্ধির পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৫ ...
মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল
মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ...
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ : ইতিহাসের এক মহানায়ক
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ : ইতিহাসের এক মহানায়ক
৭ জুন, ১৮৭১, জন্ম গ্রহন করেছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, আমাদের ইতিহাসের দ্যুতিময় ব্যক্তিত্ব, উপমহাদেশের আজাদী ও ...
টাঙ্গাইলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ছাতা ও মাস্ক বিতরণ
টাঙ্গাইলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ছাতা ও মাস্ক বিতরণ
টাঙ্গাইলে তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের বিপর্যস্ত জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনতে সোমবার (৮ জুন) সকালে খেটে খাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ছাতা, ...
বিশ্বকাপের আমেজে বোদায় ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফুটবল প্রীতি ম্যাচ
বিশ্বকাপের আমেজে বোদায় ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফুটবল প্রীতি ম্যাচ
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ সামনে রেখে পঞ্চগড়ের বোদা হাইস্কুল মাঠে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ...
নাসির-তামিমা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে আগাম আত্মবিশ্বাস
নাসির-তামিমা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে আগাম আত্মবিশ্বাস
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১০ ...
১০
মানবতার শ্রেষ্ঠ বংশধারা: নবী পরিবারসহ আদম (আ.) পর্যন্ত বংশস্তর
মানবতার শ্রেষ্ঠ বংশধারা: নবী পরিবারসহ আদম (আ.) পর্যন্ত বংশস্তর
মানব ইতিহাসে অসংখ্য মহান ব্যক্তি, রাজা, দার্শনিক ও সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্তু প্রভাব, মর্যাদা, চরিত্র, নেতৃত্ব এবং মানবকল্যাণে অবদানের বিচারে ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com