|
সাতক্ষীরার মেয়ে প্রজ্ঞার প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান, মেধা ও মননে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। প্রজ্ঞার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর মা-সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। যিনি নিজে একজন সফল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সমাজসেবায় অবদান রাখার পাশাপাশি প্রজ্ঞাকে গড়ে তুলেছেন একজন অল-রাউন্ডার হিসেবে। মা নাজমুন নাহারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করা এই ‘সাতক্ষীরার মেয়ে’ এবার জয় করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গন।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সংগঠন ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছেন প্রজ্ঞা। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে তিনি বর্তমানে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (সিআরসি) অংশগ্রহণ করছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের খ্যাতনামা প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রজ্ঞা পারমিতা রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রজ্ঞার এই অনন্য সম্মাননা অর্জন পুরো সাতক্ষীরাবাসী তথা পুরো দেশের জন্য এক অভাবনীয় গর্বের বিষয়। প্রতিযোগিতার কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞার মা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির পর সারা বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করেন। অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার শেষে বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই ৩ জনের মধ্যে ২ জনই বাংলাদেশের বুয়েটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী (প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান ও আফতাব) এবং অপরজন দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিজয়ী হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ASHRAE প্রজ্ঞার বিমান ভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করেছে। সাতক্ষীরার সন্তান প্রজ্ঞার এই বিশ্বজয়ের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশব থেকেই অল-রাউন্ডার হয়ে ওঠার গল্প। প্রজ্ঞা সাতক্ষীরা কিন্ডার গার্টেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষা শেষ করে বুয়েটে সুযোগ পান। এসএসসিতে জিপিএ-৫ সহ জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী প্রজ্ঞা ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ছিলেন ঈর্ষণীয়ভাবে সফল। তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ চার-পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। ছিলেন সাতক্ষীরা বিতর্ক দলের ক্যাপ্টেন; ২০২১ সালে বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি টানা ৭টি বিতর্কেই ‘শ্রেষ্ঠ বক্তা’ হন। এছাড়া তিনি চ্যানেল আই-এর ‘স্বর্ণকিশোরী’ হিসেবে খুলনা বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন বিডিনিউজ২৪ ডটকমের হ্যালোর শিশু সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজ্ঞার বাবা আলহাজ্জ মো. সাহিদুর রহমান সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মার্স ব্যাংকের খুলনা শাখার ম্যানেজার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। মেয়ের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে আবেগপ্লুত মা নাজমুন নাহার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, প্রজ্ঞা শুধু আমার মেয়ে নয়, সে সাতক্ষীরার মেয়ে, পুরো বাংলাদেশের মেয়ে। একজন মা হিসেবে ওর এই বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছোটবেলা থেকেই প্রজ্ঞাকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ওর মেধা বিকাশে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে ও যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে মর্যাদার সাথে তুলে ধরতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে-এই জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। |