|
প্রবীণরা সমাজের অমূল্য সম্পদ, তাঁদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র গঠনে কাজে লাগাতে হবে: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। সংগঠনের নির্বাহী সদস্য শহীদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, ফজলুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আবিদুর রহমান, রোকেয়া রহমান, কাজী আবু হেলাল প্রমুখ। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবীণরা সমাজের মূল ভিত্তি এবং আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁদের দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের সুচিন্তিত মতামত ও দিকনির্দেশনা নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে বয়স্ক ভাতার কভারেজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ক্ষেত্রে ৭৩ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৭৭ বছরেরও বেশি; অথচ আশির ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৫০ বছরের কাছাকাছি। তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেলে তা স্বাস্থ্য সেবা সচিবের কাছে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া প্রবীণদের কল্যাণে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন, কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটিতে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রাণসায়র খালের সৌন্দর্য বর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যেই ওয়াকওয়ে নির্মাণের অর্থ সংস্থান হয়েছে, অর্থ ছাড় পেলেই পৌরসভা কাজ শুরু করবে। তবে খালের ভেতরের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা দূর করে কাজ এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রবীণসহ সবার বিনোদন ও হাঁটার সুবিধার জন্য ‘ডিসি ইকো পার্ক’-এ ওয়াকওয়ে, বিশ্রামাগার ও রেস্টুরেন্টসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। |