|
তিতুমীর কলেজের কতিপয় হলের শিক্ষার্থীর বেপরোয়া আচরণ: চরম উদ্বেগে মহাখালীর স্থানীয় বাসিন্দারা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
|
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজের কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীর উগ্র মেজাজ ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হলের কতিপয় শিক্ষার্থীর অনর্থক ঝগড়া-বিবাদ এবং সংঘাতময় আচরণের কারণে এলাকার শান্ত পরিবেশ প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রায়শই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পায়ে পাড়া দিয়ে স্থানীয়দের সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। আশেপাশের চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডার নামে সাধারণ মানুষের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তারা। অনেক সময় হেঁটে যাওয়ার সময় বা দোকানে অবস্থানকালে সাধারণ মানুষের গায়ে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগিয়ে বিবাদের সুযোগ তৈরি করা হয়। কেউ এর প্রতিবাদ করলে বা কিছু বললে পরিস্থিতি জটিল করে তোলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বাকবিতণ্ডাকে বড় করতে হলের অন্য শিক্ষার্থীদের ফোনে কল করে ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়, যা পরবর্তীতে বড় আকারের বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। চায়ের দোকানগুলোতে আসন দখলকে কেন্দ্র করেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। দোকানে সাধারণ মানুষ বা প্রবীণ কেউ বসে থাকলে তাঁদের জোরপূর্বক উঠিয়ে দিয়ে নিজেরা বসার চেষ্টা করেন ওই শিক্ষার্থীরা। কেউ উঠে যেতে না চাইলে কিংবা প্রতিবাদ করলে কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে বড় ধরনের হাতাহাতি ও ঝগড়া বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের অভিযোগ আরও গুরুতর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, হলের কিছু শিক্ষার্থী দোকানে খাবার খেয়ে কিংবা দরকারি পণ্য নিয়ে কোনো প্রকার মূল্য পরিশোধ না করেই চলে যান। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বা অনুরোধ করলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে দলবল ডেকে এনে সংশ্লিষ্ট দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ক্ষুদ্র বিষয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এসব উগ্র আচরণ প্রায়শই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। প্রায়ই দেখা যায়, এসব শিক্ষার্থীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে দলবেঁধে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। তাঁদের এমন মহড়া ও ধ্বংসাত্মক মনোভাবের কারণে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের এমন অপতৎপরতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে অবিলম্বে এই অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। |