|
মহাখালীতে জামিনে ফিরে ফের প্রকাশ্যে শরিফের ইয়াবা কারবার: আতঙ্ক ও ক্ষোভে এলাকাবাসী
বিশেষ প্রতিনিধি:
|
রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী মধ্যপাড়া এলাকার শাকেরিয়া মাদ্রাসা গলি। আবাসিক এই এলাকার পরিবেশ এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। বারবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শরিফ পুনরায় তার মাদক ব্যবসা শুরু করেছে। তার নিজ বাসভবনকেই বানিয়ে ফেলা হয়েছে ‘মাদক স্পট’।দিনরাত আবাসিক এলাকার ভেতরে মাদকাসক্তদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার হুমকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। ‘বেচমু বেশি, লাভ করমু কম’—শরিফের ইয়াবা সাম্রাজ্য- অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শরিফের মাদক ব্যবসার মূল উপাদান প্রাণঘাতী ইয়াবা। পাইকারি থেকে খুচরা—সব ধরনের ইয়াবা বিক্রিতে তার একক প্রভাব রয়েছে। মাদকসেবীদের তথ্যমতে, বিভিন্ন মান ও কোয়ালিটির ইয়াবা মজুত থাকে তার কাছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায়, “বেচমু বেশি, লাভ করমু কম।” এমনকি নারী ক্রেতারাও তার কাছ থেকে নিয়মিত ইয়াবা সংগ্রহ করে থাকে। বিক্রির পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে আশপাশের অন্যান্য মাদক কারবারিরাও তাদের ইয়াবা বিক্রির জন্য শরিফের কাছে পাঠায় বলে জানা গেছে। এছাড়া, তার বাড়িতে স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধীদের মাদক সেবন ও নিয়মিত গোপন বৈঠকেরও অভিযোগ রয়েছে। আইনের ফাঁক গলিয়ে দ্রুত জামিন, অতপর আরও বেপরোয়া: সর্বশেষ গত মাসে শরিফের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ শরিফ ও তার ৫ সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে বনানী থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসেছে। শরিফের বিরুদ্ধে বনানী থানাতেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। জামিনে বের হওয়ার পর শরিফ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে সে বলে বেড়াচ্ছে, “জামিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে, সেই টাকা দ্রুত তুলতে হবে।” এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। শরিফকে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছিলাম। আদালত জামিন দিলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তার এলাকায় আবারও অভিযান চালানো হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, মাদক কারবারিদের এমন দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়া এবং পুনরায় অপরাধে জড়ানোর পথ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত এই স্পট বন্ধ না হলে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে। |