|
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্প: মেয়াদ শেষের পরও থামেনি নির্মাণকাজ, শেষ নিয়ে অনিশ্চয়তা
নতুন বার্তা, সিরাজগঞ্জ:
|
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় প্রায় দেড় বছর সময় নষ্ট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।একপর্যায়ে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানানো হলেও বাস্তবে এখনও নির্মাণকাজ চলমান। বর্তমানে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের পরিচালক ওলিউর রহমান বলেন, “এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।” তবে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। তাদের দাবি, বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় আগামী এক বছরের মধ্যেও পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ওলিউর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মূলত চলমান কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথাই জানিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড—সিআরবিজি। প্রায় ১৪৭ একর জায়গাজুড়ে এ ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে ‘সাসেক-২’ প্রকল্পের আওতায়। বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইন্টারচেঞ্জটি ঢাকা প্রান্তে ৭৫৫ মিটার, পাবনা প্রান্তে ৯৮০ মিটার, রাজশাহী প্রান্তে ৮০০ মিটার এবং রংপুর প্রান্তে ৮১০ মিটারজুড়ে বিস্তৃত হবে। এতে ছয়টি আলাদা র্যাম্প ও একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে। ঢাকামুখী এবং উত্তর-দক্ষিণমুখী যানবাহন পৃথক র্যাম্প ব্যবহার করবে। ধীরগতির যান চলাচল করবে নিচের গ্রাউন্ড রোড দিয়ে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফিরোজ আক্তার বলেন, “আমি এই প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। অতীতে এ কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। আমি রংপুর বিভাগের দায়িত্বে আছি।” হাটিকুমরুল দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ কেন্দ্র। ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এ গোলচত্বর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। একই সঙ্গে অন্তত ১০টি স্থলবন্দরের সড়ক যোগাযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এ অঞ্চলের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২২ জেলার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়। |