|
বনানীর কড়াইল বস্তিতে ইয়াছিন ও পিকার বাবু বাহিনীর তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
|
রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বেলতলা ভাঙ্গা ওয়াল বস্তি এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ বাসিন্দারা। কথিত মাদক সম্রাট ইয়াছিন ও তার সহযোগী 'পিকার বাবু'র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সশস্ত্র গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি, ঘর দখল, মারধর ও প্রকাশ্যে লুটের ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। নারী ও শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না তাদের হাত থেকে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াছিন ও পিকার বাবু বেলতলা ভাঙ্গা ওয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি বস্তিবাসীদের ওপর নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে তারা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই চলে হামলা ও বসতঘর দখলের তাণ্ডব। দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে স্থানীয়দের পথরোধ করে অর্থ ও মালামাল লুট করার অভিযোগ উঠেছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জাহিদ খান ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, "এই সন্ত্রাসীদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই শুনতে হয় প্রাণনাশের হুমকি। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ওপর হামলা চালিয়ে ঘর দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বার বার গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আদালত থেকে মামলা নেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বনানী থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে তারা বহাল তবিয়্যে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।" বস্তির একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা জানান, সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও পিকার বাবুর ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের দুঃসাহস দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত এদের গ্রেফতার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বস্তি এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী চক্রের স্থান হবে না। ওই নির্দিষ্ট চক্রটির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুতই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।" এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "কড়াইল বস্তির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। নির্দিষ্ট করে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের কাজে কোনো শিথিলতা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না।" কড়াইল বস্তিবাসীর একটাই দাবি—অনতিবিলম্বে ইয়াছিন ও পিকার বাবুসহ তাদের ক্যাডার বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। |