|
১২ দিনের মাথায় ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
সিদ্ধান্ত থেকে সরল এলপিপি, কাটল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শঙ্কা
রাশিয়ায় আটকে থাকা ৪০ মিলিয়ন ডলার আদায়ে সহায়তার আশ্বাস
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে দেশের তৈরি পোশাক খাতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে। ইউরোপের অন্যতম বড় ফ্যাশন রিটেইলার পোল্যান্ডভিত্তিক এলপিপি বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনার পর প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপিপির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে বছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়ত। একই সঙ্গে শত শত কারখানার অর্ডার ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সোমবার জানান, এলপিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর উভয়পক্ষ একটি যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে। এতে বাংলাদেশে ব্যবসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে আটকে থাকা রপ্তানি আয়ের অর্থ আদায়ে সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, রাশিয়ার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি পোশাক কারখানার প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার পাওনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, এফইএসের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে এলপিপির ঢাকা অফিসের ভূমিকা ছিল। তবে এফইএসের আর্থিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতায় ওই অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পাওনা অর্থ উদ্ধারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে গত ৩০ জুলাই এলপিপি বাংলাদেশে নতুন অর্ডার, পণ্য উন্নয়ন এবং কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার পর পোশাক খাতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় ক্রেতা। প্রতিষ্ঠানটির জন্য দেশের প্রায় ৭৭২টি কারখানা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। বছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি হয় এই ব্র্যান্ডের কাছে। ফলে তাদের ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। বিজিএমইএর নেতারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে নতুন উদ্যোগের পথও খুলে গেছে। তারা আশা করছেন, বকেয়া অর্থের বিষয়েও দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে। পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের মধ্যে বড় ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলপিপির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার সেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। |