|
মৌলভীবাজারে ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে কুপিয়ে জখম - থানায় অভিযোগ
মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী :
|
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চুবড়া এলাকায় এক ফল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে চুবড়া এলাকার একটি ফলের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম-এর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ফল বিক্রির নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। আহত আব্দুর রহিম-কে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রেরণ করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা-এ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন সেলিম মিয়া, শহিদ মিয়া, জাবেদ মিয়া, মাসুম মিয়া, ইমন আহমদ ও মোবারক আলী। মামলার নম্বর-০৬, তারিখ ০৩ জুন ২০২৬। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় রুজু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল এন্ড ব্রাদার্স-এর মালিক মোঃ আফজল হোসেন জানান, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং অন্ধকারের কারণে মারামারির সময় তিনি স্পষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, “রাত প্রায় ৯টার পর যখন মারামারি হয় তখন বিদ্যুৎ ছিল না। কলা ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে কারা মারধর করেছে আমি দেখিনি। অন্ধকারে শুধু মারামারি হয়েছে, তবে কে বা কারা জড়িত ছিল তা জানা জানিনা ।” আহত আব্দুর রহিম-এর স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, ঘটনার আগে তারা হবিগঞ্জে ছিলেন। তার স্বামী ব্যবসার আড়তদারকে টাকা দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা নিয়ে চুবড়া এলাকায় আসেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমার স্বামী দোকান থেকে টাকা পাঠানোর জন্য গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং তার লুঙ্গির মোড়ে রাখা ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।” আহতের ভাই আলিম জানান, পূর্বে অভিযুক্তদের সাথে দোকানের মধ্যে একটি মারামারি হয়েছিল, যেখানে সেলিম মিয়া আহত হন। পরে সাবেক কমিশনার বায়েছ আহমদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও বলেন,“ঘটনার দিন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ভাই রাস্তায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়।” স্থানীয় বাসিন্দা দরবেশ মিয়া জানান, ঘটনাস্থলের পাশে চিৎকার শুনে গিয়ে তিনি আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে দেখতে পান, তবে কারা হামলা করেছে তা তিনি দেখেননি। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাজু মিয়া বলেন, ঘটনার সময় কয়েকজনকে দা ও লাঠি নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখেছেন, তবে তিনি সরাসরি হামলা দেখেননি পরে শুনেছেন। অভিযুক্ত মোবারক আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আব্দুর রহিমকে আমরা মারিনি। এর আগে আমাদের পক্ষের লোক সেলিমকে মারধর করা হয়েছিল। বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।” এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। |