/ মতামত / জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া:
Published : Monday, 8 June, 2026 at 12:13 AM
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে গণদাবি উপেক্ষা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। এবার বৃদ্ধির পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৫ বছরের সর্বোচ্চ এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিবেচনাপ্রসূত ও অনৈতিক। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে জনগণের ত্রাহি অবস্থা। তার ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জনগণের কাঁধে বোঝার ওপর শাকের আঁটি বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড়মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ২৫ বছরে এবারই একবারে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে অন্তত ৬০ শতাংশ। এটা যাবে সাধারণ আয়ের মানুষের পকেট থেকে। দেশে সীমিত ও সাধারণ আয়ের মানুষই বেশি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কেন এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিল, তা দেশবাসীর বোধগম্য নয়।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক, অন্যায্য ও গণবিরোধী বলেই দেশবাসী মনে করেন। মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও অন্য কোনভাবে বিদ্যুতের লস কমানোর লক্ষ্যেই সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা উচিত। জ্বালানি তেলের পর বিদ্যুতের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি করাটা জনস্বার্থ বিরোধী। আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পসহ সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের ফলাফল উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে জনজীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে। দেশের বিদ্যুৎ খাতের ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর ধারাবাহিকতা পূর্বের মত এখনো চলছে! যুগ যুগ ধরে বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির ফল ভোগ করছেন ভোক্তাসাধারণ। ভোক্তাদের পকেট কেটেই এ খাতের লোকসান মেটানো হয়েছে। ভোক্তা বিদ্যুৎ ব্যবহার করুক বা না করুক, মাস গেলে নানা ধরনের বিল পরিশোধ করতেই হয়। এবারও গণশুনানিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। কিন্তু গণদাবিকে সরকার আমলে নেয়নি। বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের সহযোগী ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি আবারও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করে। কোম্পানিগুলোর খুচরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির অন্যায্য প্রস্তাব কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়ে মূল্য বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মেনে নেওয়া যেত যদি এ খাতে সরকার অপচয় ও দুর্নীতি রোধের সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর নজির তৈরি করতে পারত। কিন্তু তা না করে তারা দাম বাড়ানোর পুরনো চক্রই বজায় রেখে চলেছে। ছয়টি কোম্পানির মামাবাড়ির আবদার পূরণের লক্ষণ দেখে সংবাদমাধ্যমগুলো যখন সোচ্চার, তখনও দেখা যাচ্ছে, এসব আবেদন-নিবেদন ও সমালোচনা ‘কুম্ভকর্ণ’দের কর্ণে প্রবেশ করে না।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা প্রদান করে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেলেও কমিশন সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে বাড়তি চাপের বিপরীতে সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে বিদ্যুতের ৫৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি নেমে দাঁড়াবে ৪১ হাজার কোটিতে। ঘোষণা অনুসারে, দিনে শুধু প্রয়োজনীয় সময়ে একটি লাইট-ফ্যান ব্যবহারকারী গ্রাহককেও আগামী মাসে ৪০ টাকার মতো বেশি বিল পরিশোধ করতে হবে। বাসাবাড়ির অন্য গ্রাহকের খরচ ব্যবহার অনুযায়ী মাসে ৭০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকের খরচ আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে এক টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে সাত টাকা থেকে এক টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা  ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। শতকরা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ শতাংশ; স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালে প্রায় ২০ শতাংশ এবং শিল্পে ১৮-১৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি বিদ্যুৎ বিল যা বাড়বে, তার চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে পরোক্ষ ব্যয়ে। উৎপাদন ও সেবা খাতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। বৃদ্ধি পাবে মূল্যস্ফীতি।

যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছিলেন, আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠলে সরকার ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। সরকার জনগনের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুত রক্ষা করতে পারলো না , নাকি সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার জন্যই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিল ? দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যেই লাইনের গ্যাস ছাড়া সব ধরনের জ্বালানির কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। এপ্রিলে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়। এবার বিদ্যুতের দামও রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি জনগনের জন্য কতটা শুল তা কি ভেবে দেখেছেন সরকারের কর্তা ব্যাক্তিরা।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মনে করে, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলোর কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেগুলো বন্ধের দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো। এর প্রভাব সবখানেই পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ বিষয়ে বলছেন, বাজেটের আগে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তার এই বক্তব্যের পর জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে আসলে সরকারী চেযারে গেলেই কি মন্ত্রী , উপদেষ্টাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, নাকি তারা সরকারী চেয়ারে বসলে অতিতের সব বক্তব্য ভুলে গিয়ে জনগনের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহন করতে আনন্দ পায় ? দু:খজনক হলেও সত্য যে, সরকারী ক্ষমতার চেয়ারে বসলে এরা জনগনকে বোকা মনে করে। প্রায় সকলেই সরকারে যাবার আগের সকল বক্তব্য ভুলে গিয়ে জনবিরোধী অবস্থান গ্রহন করে বৈদেষিক শক্তির তল্পিবাহকে পরিনত হয়। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা জনগনকে নয়, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতা গোষ্টিকে পদলেহনের মাধ্যমে খুশি করতে ব্যাস্ত হয়ে উঠে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তাদের চেহারা ও বক্তব্য আর ক্ষমতায় যাওয়ার পড়ে তাদের অবস্থান জনগনকে চোপটাঘাত করে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির দুটি দিক। একটি হলো মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কী হবে? দ্বিতীয়টি হলো এটির বিকল্প কী ছিল?

মূল্যবৃদ্ধির ফলে কী হবে ? : বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবন ও অর্থনীতিতে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে এবং শিল্প ও কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়। স্বাভাবিক পরিবারের বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পাশাপাশি এর 'ডমিনো ইফেক্ট' (domino effect) বা পরোক্ষ প্রভাবে বাজারে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠে। সেচ পাম্পের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পায়। য়ার ফলে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। প্রথম আলো অনুযায়ী, এর ফলে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি মূল্যে সেবা গ্রহণ করতে হয়।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে বিকল্প কী করা যেত? : বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে বিকল্প অনেক পথই রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা ম,নে করেন। সেগুলো বিবেচনায় নিলে আপাতত গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের মুল্যবৃদ্ধি না করলেও চলতে অথবা একান্ত বৃদ্ধি করলেও তা রাখা যেত সহনশীল পর্যায়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ার বড় একটি কারণ হলো, এ খাতে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। বিগত সরকারের আমলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমিয়ে আনায়ও মনোযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক জ্বালানির স্থানীয় উৎসগুলোকে কাজে লাগাতে না পারা এবং নবায়নযোগ্য খাতে  বিনিয়োগে অনিচ্ছার কারণেও খাতটিতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছে ক্রমেই।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এড়াতে যে বিকল্প কৌশলগুলো গ্রহণ করা যেত, তা হলো অব্যবহৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে যে বিশাল পরিমাণ 'ক্যাপাসিটি চার্জ' বা কেন্দ্র ভাড়া দিতে হয়, তা পুনর্নির্মাণ বা বাতিল করা। সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটি এবং দুর্নীতি রোধ করে সিস্টেম লস কমালে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সাশ্রয় হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে সোলার প্যানেল বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ধনী ও সচ্ছল গ্রাহকদের ভর্তুকি প্রত্যাহার করে শুধুমাত্র প্রান্তিক, নিম্নবিত্ত ও কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা।

দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে এসে জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে সকল পণ্য ও সেবার মূল্যের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারে মূল্যবৃদ্ধি না করে কোনো উপায় যেমন সরকারের নাই। তেমনই আবার মূল্যবৃদ্ধি করেই ভর্তুকি সমন্বয় করাও সম্ভব নয়। অতীতে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি করেও ঘাটতি পূরণ হয়নি। সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। তবে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এবং অদক্ষ ও ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে আনলে উৎপাদন ব্যয় কমবে। তা ছাড়া সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন এবং সিস্টেম লস কমিয়ে আনাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিলে বিদ্যুতের দাম এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল না।

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মুনাফা নয়, লোকসান নয়— এটাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতি। তাই সরকারি কোম্পানির মুনাফা করার কথা নয়। সরকারি কোম্পানি সেবার জন্য তৈরি, অথচ তারা মুনাফা করছে। আবার শ্রম আইনের দোহাই দিয়ে সেই মুনাফা নিচ্ছে ভাগ করে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোতে বেতন সরকারি বেতন স্কেলের চেয়ে দেড়গুণ বেশি। এরপরও মুনাফার নামে শত শত কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর তার দায় চাপছে জনগণের ওপর। অথচ এ বাড়তি ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর না চাপিয়ে বিতরণ সংস্থাগুলোর মুনাফা থেকে যতটা সম্ভব সমন্বয় করা যেত। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী প্রস্তাব বাতিল ও অপচয়, সিস্টেম লস ও লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহন করে অবিলম্বে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের পদক্ষেপ জনমনে আশার সঞ্চার হতে পারে।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া: কলাম লেখক, রাজনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


 
মানবতার শ্রেষ্ঠ বংশধারা: নবী পরিবারসহ আদম (আ.) পর্যন্ত বংশস্তর
মানবতার শ্রেষ্ঠ বংশধারা: নবী পরিবারসহ আদম (আ.) পর্যন্ত বংশস্তর
মানব ইতিহাসে অসংখ্য মহান ব্যক্তি, রাজা, দার্শনিক ও সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্তু প্রভাব, মর্যাদা, চরিত্র, নেতৃত্ব এবং মানবকল্যাণে অবদানের বিচারে ...
মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল
মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ...
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয় : দুর্নীতি কমাতে হবে !
তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে গণদাবি উপেক্ষা করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। এবার বৃদ্ধির পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৫ ...
নাসির-তামিমা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে আগাম আত্মবিশ্বাস
নাসির-তামিমা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে আগাম আত্মবিশ্বাস
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আগামী ১০ ...
ডিজিটাল যুগে সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক সংকট
ডিজিটাল যুগে সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক সংকট
যেকোন রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা-এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অখণ্ড নীতি। এই নিরাপত্তা শুধু শারীরিক সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ...
লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়ের (১৮) চিকিৎসাধীন মারা গেছেন। তার লাশ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ...
রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় ৩ দিন ধরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের অবস্থান, বিএসএফ বলছে ফিরিয়ে নেবে না
রাষ্ট্রহীন সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় ৩ দিন ধরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনের অবস্থান, বিএসএফ বলছে ফিরিয়ে নেবে না
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে গত শুক্রবার ভোরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ...
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী ...
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে ...
১০
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ এর ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসক শরীফা হক । ...
 
অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আয়োজনে প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট
অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আয়োজনে প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারীতে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভোটমারী স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আয়োজনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।ভোটমারী স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ...
ঈদে ৮ দিন বন্ধ থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন চালু
ঈদে ৮ দিন বন্ধ থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন চালু
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে আমদানী রফতানীসহ সকল কার্যক্রম টানা ৮ দিন বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শুল্ক স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। ...
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যসহ গ্রেফতার ২
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যসহ গ্রেফতার ২
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত এক সদস্যকে গ্রেফতার ...
কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? জানুন দূর করার ঘরোয়া উপায়
কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? জানুন দূর করার ঘরোয়া উপায়
কোষ্ঠকাঠিন্য এখন খুব সাধারণ একটি সমস্যা, যা অনিয়মিত খাবার, কম পানি পান, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে দেখা দেয়। ...
কুরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা
কুরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়াশিল্প এখন খাদের কিনারে। কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হতো, ...
৬ জেলায় সড়কে ঝরল ২৭ প্রাণ
৬ জেলায় সড়কে ঝরল ২৭ প্রাণ
দেশের ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ...
ঈদের ছুটিতে চোরের নজরে ফাঁকা বাসা
ঈদের ছুটিতে চোরের নজরে ফাঁকা বাসা
ঈদুল আজহা ঘিরে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা একপাশে রেখে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ...
কলকাতায় আ.লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
কলকাতায় আ.লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় ...
বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য ...
১০
কালিহাতীতে বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫টি গরুর মৃত্যু
কালিহাতীতে বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫টি গরুর মৃত্যু
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ফসলি জমির মাঠে বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশের খুঁটি ভেঙে পড়ে থাকা তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচটি গরু মৃত্যু হয়েছে।বুধবার ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com