|
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা: ঝুঁকিতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। ফ্লাইট সংকট, ভিসা জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় এরই মধ্যে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার হার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার হার নেমে এসেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ধস নামবে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর।ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভস প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শরিফুল হাসান বলেন, শ্রমবাজারে এই যুদ্ধের প্রভাব বহুমাত্রিক। প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে গত কয়েক বছরে গড়ে ১০-১১ লাখ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। মাসে গড়ে ১ লাখ মানুষ বিদেশে গেছেন। যার মধ্যে ৭০-৮০ হাজারই গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট সমস্যায় তাদের বড় একটি অংশ যেতে পারছেন না। এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ভাটা পড়বে। জানা যায়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনেকটাই সৌদি আরবনির্ভর। ওমান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রবেশ একেবারেই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বিএমইটির তথ্যানুসারে ২০২৫ সালে ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজের উদ্দেশে বিদেশে গেছেন। তাদের মধ্যে ৭ লাখেরও বেশি কর্মীর গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। কিন্তু এখন যুদ্ধাবস্থার কারণে সেখানেও যেতে পারছেন অন্য সময়ের এক-চতুর্থাংশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের হারে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ওই বছরের ১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের জন্য ৮০ হাজার ৭০২ জন, কাতারের জন্য ৯ হাজার ৬৫ জন, কুয়েতের জন্য ২ হাজার ৪৩৭ জন, জর্ডানের জন্য ১ হাজার ১৪০ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ২৫৩ জন ছাড়পত্র নিয়েছিলেন। অন্যদিকে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৪ হাজার ৫১৮ জন, কাতারে ৩ হাজার ৯৭৩ জন, কুয়েতে ১ হাজার ৫৩৬, জর্ডানে ৯৮৭ জন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ৬২১ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। এদিকে যুদ্ধাবস্থার শুরুতে অনেকেই ফ্লাইট মিস করেছেন। নির্ধারিত সময়ে বিদেশে কর্মস্থলে যেতে পারেননি। বর্তমানে সেটি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও অনেক কষ্টে মিলছে বিভিন্ন এয়ারবাসের টিকিট। অনেককে টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। লিবিয়া, ব্রুনাই, ওমান, বাহরাইনে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ আছে অনেক বছর ধরে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বাহরাইন, ওমানে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। শরিফুল হাসান আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি বসবাস করছেন, তাদের কাজ ও আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনেকে দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারবেন না। এতে দেশের রিজার্ভের ওপরও নেতিবাচক ধাক্কা আসতে পারে। তিনি বলেন, ইরানে প্রায় ৮০-৯০ হাজার বাড়িঘর স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশ যদি তার নিরপেক্ষ অবস্থান রাখতে পারে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের এখন প্রয়োজন এই বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা। যারা বিদেশে যেতে পারছে না, তাদের তালিকা করা; আপডেট রাখা এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাওয়া যেন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হয়। অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। |