|
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্নঃ হুথিদের হামলার পরও তুরস্ক-পাকিস্তান কেন সৌদির পাশে নেই?
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত—সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সব দেশ তা প্রতিহত করবে। কিন্তু ইয়েমেনের হুথি সেনারা যখন সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে, তখন পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে না তুরস্ক ও পাকিস্তান। এতে মক্কা চুক্তি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে।মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চুক্তির প্রতিরক্ষা ধারা এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি। এক জ্যেষ্ঠ তুর্কি কর্মকর্তার দাবি, জোটটি এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার পর্যায়ে রয়েছে এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরিতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে গত মাসে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার মুখে সৌদি আরবের পাশে জোটটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ না আসায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায় হুথিদের হামলার পর প্রশ্ন ওঠে, নতুন এই জোটের সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান রিয়াদের সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসবে কি না। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের উপকূলের কিছু অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার দাবি এবং সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ পরিবহন করা হয়। তবে মক্কা চুক্তিকে এরই মধ্যে ব্যর্থ বলা ঠিক হবে না বলে দাবি করেছেন এক জ্যেষ্ঠ তুর্কি কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, চুক্তির প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি। তার মতে, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে তিন দেশের নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তুরস্কে চুক্তিটি পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য শিগগিরই উপস্থাপন করা হতে পারে, সম্ভবত অক্টোবরে। পাকিস্তানকেও সংসদের অনুমোদন নিতে হবে। তবে সৌদি আরব রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারবে। তুর্কি ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা শুধু একটি নিরাপত্তা জোট নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি। তিনি জানান, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও তিন দেশকে হুমকি মূল্যায়ন, পারস্পরিক পরামর্শ, সামরিক সমন্বয় এবং যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো গড়ে তুলতে হবে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় তিন দেশ। শুরুতে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব সচিবালয়টির নেতৃত্ব দেবেন। তবে তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বা ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ তৈরিতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, তিন দেশ এর আগে আলাদাভাবে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিলেও একসঙ্গে ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। মক্কা চুক্তিতে একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে এটিকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে তুর্কি কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পাল্টা হামলা শুরু হবে না। বরং আক্রান্ত দেশ সহযোগিতা চাইলে তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। এদিকে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবে রিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের আলাদা প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও রিয়াদ এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদের কাছে সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়নি। তুর্কি কর্মকর্তার মতে, মক্কা চুক্তির মূল লক্ষ্য প্রতিটি হামলার তাৎক্ষণিক সামরিক জবাব দেওয়া নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে সম্ভাব্য সংঘাতকে শুরু হওয়ার আগেই ঠেকানো যায়। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান সংঘাত কিংবা সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এই জোটের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে দীর্ঘমেয়াদে জোটটি এমন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে চায়, যা উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখবে। |