|
জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজঃ রাষ্ট্রপতিকে নিজ জেলায় বরণ করতে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি
নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দুদিনের সফরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসবেন কাল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
|
আগামীকাল ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে ঠাকুরগাঁও-এ প্রথম সফর। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে নিজ জেলায় বরণ করতে চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গত দুইদিন জেলা শহর ঘুরে দেখা গেছে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে গেট নির্মাণ তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। কিছু কিছু সড়কে চলছে সংস্কার কাজ। তাছাড়া এ উপলক্ষে সড়কগুলোকে নতুনভাবে রং করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান রং করা ও ভবন সংস্কার কাজ চলছে। এ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা জেলা শহরে কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সর্দার মোস্তফা শাহিন বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পরিস্কার, পরিচ্ছন্নতাকরণ, সংস্কার, আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করছে। উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে উৎসবমূখর পরিবেশে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি চলছে। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয় কে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। প্রত্যাশা করছি তাঁর আগমন উপলক্ষে এই সমস্ত আয়োজন সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। এদিকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়কে দলীয়ভাবে সংবর্ধনা প্রদান এবং একটি বৃহৎ জনায়েত জন্য কাজ করছে জেলা বিএনপি। এ নিয়ে অনেক সাড়ম্বরে কাজ করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে আমরা বিএনপি পরিবার অনেক আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। আমাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করতে ও তাঁকে সংবর্ধনা দিতে আমাদের দলের লাখো নেতাকর্মী সমর্থক প্রস্তুত রয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের জমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে কাজ ইতোমধ্যেই সুসম্পন্ন হয়েছে। আশা করি সফল হবে আমাদের আয়োজন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে জেলার নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে শহরের বড় মাঠে বিশাল নাগরিক গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেই আয়োজনের প্রস্তুতিও শেষের দিকে। নাগরিক গণসংবর্ধনার বিষয়ে নাগরিক গণসংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং এনজিও ব্যক্তিত্ব শহীদ উজ জামান জানান, আমরা ঠাকুরগাঁও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে দল,মত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং গোষ্ঠী নির্বিশেষে নাগরিক গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছি। সকল মতভেদের উর্ধ্বে উঠে আমরা আমাদের প্রিয় ব্যক্তি ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহোদয়কে বরণ করে নেবো। আশা করি সকল শ্রেণির সকল পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও সাফল্যমন্ডিত করবেন। অন্যদিকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল, জেলা শহর ও পুরো জেলা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে ঠাকুরগাঁও শহরকে। এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে পুরো জেলা শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থলে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় এসএসএফ, পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের প্রটোকল অফিসার ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে রোববার সকালে হ্যালিকপ্টার যোগে তিনি নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন। হেলিকপ্টারে তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে আসবেন৷ সেখানে একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন। পরে তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর বিকেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এসব কর্মসূচির সফল করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যেই সব কাজ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের সকল কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে শেষ করা সম্ভব হবে। আমরা ঠাকুরগাঁও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মহোদয় কে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছি। উল্লেখ্য, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নিজ জেলা ও জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথম আসছেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতেই এতো আয়োজন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ। সম্প্রতি তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে দলীয় ও সরকারি এসব পথ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ঠাকুরগাঁও জেলার কৃতি সন্তান হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আগমন জেলার জন্য ও জেলা বাসীর জন্য গর্ব ও অহংকারের। এ আগমন উপলক্ষে জেলাবাসী প্রত্যাশা তিনি যে উন্নয়নের ধারা শুরু করেছেন তা অব্যাহত থাকবে। |