|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
|
সংসারের খরচ মেটাতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে নানা প্রতিকুলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে অবশেষে ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মো. নাসিমুল হক। তিনি ওই উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের তিলোকী গ্রামের বাসিন্দা ছেলে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই নাসিমুলের এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়।জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী কমার্স কলেজ (ভোকেশনাল) থেকে অংশ নেন নাসিমুল। পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৪.৬২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তার সহকর্মী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাসিমুল হক বলেন, ২০০২ সালে আর্টস বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু ইংরেজি ও গণিতে অকৃতকার্য হই। তারপর পরিবারের অভাব অনটনের কারণে আর পড়ালেখা করা হয়নি। পরে সংসারের হাল ধরতে তখন কোন উপায় না পেয়ে কাঠমিস্ত্রী হিসেবে একটি মিলে কাজ শুরু করি। কিন্তু পড়ালেখা থমকে গেলেও বই-খাতার প্রতি টান কমেনি কখনোই। আর তাই লেখাপড়া চালিয়ে যাবার তীব্র আকাংক্ষা মনের ভেতর জমা ছিল বিধায় সারাদিন কাঠে নকশা তৈরি ও আসবাবপত্র বানানোর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই লেখাপড়া করেছি। তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর চাওয়াতে কয়েক বছর আগে আমি প্রাইমারি স্কুলের পরিচালানা কমিটির সভাপতির পদে নির্বাচনের জন্য মনস্থির করি। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তখন থেকেই আবার পড়ালেখা শুরু করার পরিকল্পনা নিই। আর আমার এই অদম্য ইচ্ছাতে সাহস যুগিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। তারপর ২০২৪ সালে রাজশাহী কর্মাস কলেজের ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি হই এবং সেই প্রতিষ্ঠান থেকে আজ আমি এসএসসি পাশ করেছি। সামনে কলেজে ভর্তি হবার ইচ্ছা আছে এবং যতদূর পারবো লেখাপড়া চালিয়ে যাব। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভোলাহাট উপজেলা ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা নাসিমুল আরও বলেন, ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বয়সেই সফল হওয়া সম্ভব। আর তাই সামনেও এই পড়াশোনা চালিয়ে যাবার ইচ্ছা আমার। এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. লোকমান আলী বলেন, সংসার ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও ৪৫ বছর বয়সে এমন চমৎকার ফলাফল করা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সে আমাদের ভোলাহাট উপজেলার গর্ব। তার এই সাফল্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বয়স্ক মানুষকে শিক্ষার প্রতি নতুন করে উৎসাহ যোগাবে। আগামীতে যদি সে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায় তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সকল ধরনের সহোযোগিতা করা হবে। রাজশাহী কর্মাস কলেজের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, নাসিমুল হক আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। সে এই বয়সেও ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে পড়াশোনা করতেন। কোনো ক্লাস মিস গেলে আমাদেরকে ফোন দিয়ে বারবার নোট নিতেন। সহপাঠীদের কাছেও সহোযোগিতা নিতেন। তার আগ্রহ ও উদ্দীপনা ব্যাপক ছিল। তাই আজ সে এই বয়সে এসএসসি পাশ করতে পেরেছে। আমি তার আগামীর জীবনের সফলতা কামনা করছি। |