|
বারবার ঘাম, মাথাব্যথা, ক্লান্তির সমস্যা কি রোগের ইঙ্গিত?
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
গরমে একটু বের হলেই অস্বস্তি, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঝিমঝিম বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি এগুলোকে অনেকেই সাধারণ গরমের প্রভাব বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু শরীর যদি স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে এটি হতে পারে ‘হিট ইনটলারেন্স’ বা তাপ-অসহিষ্ণুতার লক্ষণ। সময়মতো বিষয়টি বুঝতে না পারলে হিট এক্সহস্টশন থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথের প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা জানান, হিট ইনটলারেন্স কোনো রোগ নয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে সামান্য গরম পরিবেশেও অস্বস্তি, দুর্বলতা বা অসুস্থতা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এর পেছনে ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্নায়বিক রোগ বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের জটিলতা দায়ী থাকে। যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন হিট ইনটলারেন্সের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত দেখা যায়— # অতিরিক্ত ঘাম হওয়া # দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া # মাথাব্যথা # মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা # বমিভাব # মনোযোগ কমে যাওয়া # মেজাজের পরিবর্তন # দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন এসব লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে। তাই বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। যেসব কারণে শরীর গরম সহ্য করতে পারে না হিট ইনটলারেন্স বা গরম সহ্য করতে না পারার প্রধান কারণ হলো, শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর অন্যতম সাধারণ কারণ ডিসঅটোনোমিয়া বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের কার্যকারিতার সমস্যা। শরীরের এই স্নায়ুতন্ত্রই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ঘাম হওয়া, হৃদস্পন্দনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে। এই সিস্টেমে সমস্যা হলে শরীর গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। ডিসঅটোনোমিয়ার সঙ্গে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কিত, সেগুলো হলো— # ডায়াবেটিস # গিলেইন-বারে সিনড্রোম # হাইপোথাইরয়েডিজম # পারকিনসনস রোগ # ভিটামিন বি–১২-এর ঘাটতি এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম পরিবেশে থাকা, খুব বেশি বা খুব কম আর্দ্রতাযুক্ত এলাকায় অবস্থান করা, উঁচু এলাকায় দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদের মধ্যে থাকলেও গরম সহ্য করার সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে এ সময় যদি উপযুক্ত পোশাক না পরা হয় বা পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয়, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সমাধান: হিট ইনটলারেন্সের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো কারণ শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি কিছু অভ্যাসও সাহায্য করতে পারে— পর্যাপ্ত পানি পান করুন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়া কমান। ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ পরিবর্তন করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা ঠান্ডা পরিবেশে বেশি সময় থাকুন। কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে হঠাৎ করে গরম একেবারেই সহ্য না হলে বা হিট-সম্পর্কিত জরুরি অবস্থার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষ করে যদি প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়, মাথা ঘোরে বা ঝিমঝিম অনুভূত হয়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তীব্র মাথাব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। এসব লক্ষণ শরীরে পানিশূন্যতা বা গুরুতর তাপজনিত অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়তে পারে। গরমকে হালকাভাবে নেবেন না। বারবার গরম সহ্য করতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এর পেছনের কারণ জেনে নেয়া ভালো। |