|
সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২৮ জুন: লক্ষ্যমাত্রা আড়াই লক্ষাধিক শিশু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
|
আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রস্তুতির বিবরণ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত মূল মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: এসমত জাহান সুমনা। জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: জয়ন্ত সরকারসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেবল শিশুদের অন্ধত্ব থেকেই রক্ষা করে না, বরং এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুর জন্মের পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের শালদুধ এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি রঙিন শাকসবজি খাওনোর ব্যাপারেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার মোট ১,৯৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলায় এবার মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭২৩ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ০৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৭ হাজার ৯২১ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ২৫,৮০২ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। মোট ১,৯৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে ১৫টি (৭টি উপজেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পৌরসভা, সদর উপজেলা পরিষদ, শিশু হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সূর্যের হাসি ক্লিনিক ও ম্যাটারনিটি ক্লিনিক)। এছাড়া আউটরিচ কেন্দ্র ১,৯১২টি, অতিরিক্ত কেন্দ্র ১১টি এবং দুর্গম এলাকায় ৩৩৬টি কেন্দ্র রয়েছে। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে মোট ৯০৫ জন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩,৮৭৮ জন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। জেলার ০৭টি উপজেলা, ০২টি পৌরসভা, ৭৮টি ইউনিয়ন এবং ২৩৪টি ওয়ার্ডে একযোগে এই কার্যক্রম চলবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে সুন্দরবন উপকূলীয় ও চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকার (৩৩৬টি কেন্দ্র) শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে যেন শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়। সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। |