|
ঝাড়ু দেওয়ার প্রচারণায় ব্যস্ত কাউন্সিলর প্রার্থী, ফুটপাত রাস্তা দখল প্রতিরোধে নেই পদক্ষেপ!
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
|
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে এরই মধ্যে উত্তরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সরব প্রচারণা শুরু হয়েছে। কেউ রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ দেয়াল থেকে পুরোনো পোস্টার অপসারণ করছেন, আবার কেউ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু ওয়ার্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা ওয়্যারলেস গেইট মোড়ের দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি। ফুটপাত দখলের পর এখন রাস্তার একটি বড় অংশও দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি রাস্তা পারাপার করাও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। সকালে অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভিড়ে ব্যস্ত থাকে মোড়টি। কিন্তু ফুটপাতজুড়ে অস্থায়ী দোকানপাট, ভ্যান ও রিকশার জটলার কারণে অনেককেই বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগেও মোড়ের ফুটপাতে হাতে গোনা কয়েকটি দোকান ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফুটপাতের পাশাপাশি রাস্তার অংশজুড়েও বসছে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান। অন্যদিকে যত্রতত্র রিকশা ও ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় বাসগুলোও নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিয়মিত নজরদারির অভাবে মোড়টির অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। সম্প্রতি এক সম্ভাব্য প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, তিনি নিজ উদ্যোগে পাঁচজন ঝাড়ুদার নিয়োগ দিয়েছেন, যারা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে এলাকার পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন। তবে ওই পোস্টের মন্তব্য ঘরে স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও ওয়্যারলেস গেইট মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি। ওয়্যারলেস গেইট এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের বলেন, “নির্বাচনের আগে সবাই দৃশ্যমান কিছু কাজ দেখাতে ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফুটপাত ও রাস্তা দখল। প্রতিদিন যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না।” স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহীন হোসেন বলেন, “আগে যেখানে কয়েকটি দোকান ছিল, এখন সেখানে অসংখ্য দোকান। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের চেয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্থানে গণপরিবহন থামানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের মাধ্যমে ওয়্যারলেস গেইট মোড়ের বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিরা নাগরিক জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। অন্যথায় নির্বাচনের পরও ওয়্যারলেস গেইট মোড়ের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না। |