|
ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ: বাসে অতিরিক্ত ভাড়া, ট্রেনে স্বস্তি, লঞ্চে যাত্রীর চাপ
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি যেতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে তুলনামূলক কম ভিড়ে স্বস্তিদায়ক ট্রেনযাত্রা লক্ষ করা গেছে। তবে সড়কপথে বাসের বাড়তি ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করছে যাত্রীরা। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যেতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।সব মিলিয়ে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ—তিন পথেই বাড়ি ফিরতে যাত্রীরা ভিড় করছে টার্মিনাল ও স্টেশনে। গতকাল রবিবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে দেখা যায়, আগের দুই দিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। অনেক যাত্রীই ঈদের ভিড় এড়াতে পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে তুলনামূলক কম ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে পারছে তারা। গৃহিণী হালিমা আক্তার জানান, তিন সন্তান নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ে ঈদ করতে যাচ্ছেন। তাঁর স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি চাঁদরাতে যাবেন বলে অন্যদের আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, একজন যাত্রী একবার সর্বোচ্চ চারটি অগ্রিম টিকিট কিনতে পারবে। তবে কেনা টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করার সুযোগ নেই। এদিকে যাত্রীদের বিশেষ অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ আসনসংখ্যার সমপরিমাণ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটে (স্ট্যান্ডিং টিকিট) যাত্রার সুযোগ থাকলেও এই টিকিটের চাহিদা তেমন নেই বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনো দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীরা যাত্রা শুরু করেনি। তবে ঈদের ঠিক আগের দিনগুলোতে এই টিকিটের চাহিদাও বাড়বে। জামালপুরগামী একটি আন্ত নগর ট্রেনের যাত্রী সুজন মাহমুদ জানান, মা-বাবাকে নিয়ে তিনি আগেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। ঈদের ছুটি আগে পাওয়ায় তিনি আগেই গ্রামে যাচ্ছেন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, এখনো ঈদযাত্রার মূল চাপ শুরু হয়নি। আজ সোমবার থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী বাড়ি ফিরবে। এদিকে সড়কপথে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে। যাত্রী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে, কিছু রুটে এসি বাসে দ্বিগুণ এবং নন-এসি বাসে দু-তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পথে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীর ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই লঞ্চে বাড়ির পথে রওনা হয়। যাত্রীরা জানায়, এখন পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তবে ডেক ও কেবিনে যাত্রীসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছে, আজ থেকে রাজধানীর রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরো বাড়বে। তখনই শুরু হবে এবারের ঈদযাত্রার মূল স্রোত। সদরঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ভোর থেকে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৩৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। গতকাল লঞ্চ ছাড়ে ৫০টি (রাত ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত)। এদিন সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভাণ্ডারিয়া, আমতলী, ভোলা, মনপুরা, ভাসানচর, চাঁদপুর, ডামুড্যা, বেতুয়াসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। যাত্রীদের কারণে সদরঘাটে বেড়েছে হাঁকডাক। কুলি ও অস্থায়ী খাবারের দোকান ছিল চোখে পড়ার মতো। টার্মিনালে লক্ষ করা গেছে পুলিশের টহল টিমের উপস্থিতি। সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। |