|
রাজধানীতে হঠাৎ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: প্রশাসনে তোলপাড়, অধরা মূল মাস্টারমাইন্ড রাব্বি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
|
গত ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগের মুখে পড়েছে খোদ সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পাড়ায় হঠাৎ আওয়ামী লীগের এই মহড়া পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার পরপরই প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। ব্যর্থতার দায়ে বুধবার গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তানভির আহমেদ এবং গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে, গুলশান-বনানী অঞ্চলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির মাঠপর্যায়ের দুর্বলতার চিত্রও ফুটে উঠেছে।প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে জারি করা কঠোর আদেশে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের এ ধরনের ঝটিকা মিছিল সফল হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিসি ও ওসিকে সরাসরি দায় নিতে হবে। আইনের নাকের ডগায় মূল মাস্টারমাইন্ড ঘটনার মূল নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে বনানী থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইফতে আলম রাব্বি ওরফে টিপু আহমেদ এর নাম। সূত্র মতে, গুলশানের মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের বড় অংশই ছিল রাব্বির অনুসারী। এর আগেও রাব্বির নেতৃত্বে বনানীতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সফল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাব্বি নিয়মিত বনানী এলাকায় আসা-যাওয়া করছেন বলে জানা গেছে। মাঠে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তার আপন ছোট ভাইয়েরা সব আদেশ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সে কর্মসূচির জন্য আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে নিয়মিত উসকানিমূলক পোস্ট ও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুলশান থানার ওসি প্রত্যাহার হওয়ার পর রাব্বি তার ফেসবুক আইডিতে কটূক্তি করে লেখেন, "বেচারা গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন। তিরিশ সেকেন্ডের মিছিল বলে পার পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মনিবরা সোশ্যাল মিডিয়া আর পত্রিকায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ মেপে নিশ্চিত হয়েছেন মিছিল মোটেই তিরিশ সেকেন্ডের ছিল না। বিপদ ঘটেছে অন্যখানে। বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের লোকজন মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সহ রিপোর্ট যার যার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অথচ সরকার তাদেরকে বলছিল আওয়ামী লীগ বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই...।" আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, "কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ও ঝটিকা মিছিলের মূল রূপকার ইফতে আলম রাব্বিকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের ভাষ্য অনুযায়ী, "কূটনৈতিক পাড়ায় এ ধরনের ঝটিকা মিছিল নিরাপত্তাহীনতার বড় বার্তা দেয়। রাব্বির মতো অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে হুমকি দেয়, তবে তা সরকারের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অতি দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার না করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।" ইফতে আলম রাব্বির মতো মাস্টারমাইন্ডদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। |