|
বনানী থানা বিএনপি এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্র’!
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
|
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর বনানী থানা বিএনপির চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বনানী থানা বিএনপি। দলটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় একে একে পদধারী আওয়ামী লীগ কর্মীরা এখানে পুনর্বাসিত হচ্ছেন এবং আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় চাঁদাবাজি ও ইজারা খাত।স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় উদাহরণ বনানীর বেলতলা এলাকার ভাঙারি সানোয়ার। এক সময় বনানী থানা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি থাকা সানোয়ার পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগ দেন। তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুনায়েদ মনিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘ক্যারিয়ার’ বা সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বেলতলা এলাকার ফুটপাতের দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার মূল দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। সরকার পতনের পর সানোয়ারের এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট অক্ষুণ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি বেলতলা এলাকার কথিত বিএনপি নেতা খুররমের বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুররম নিজেও ৫ আগস্টের আগে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তবে পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি তিনি বিএনপি নেতা বনে যান। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাকে বিএনপিতে পুনর্বাসিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক এই আশ্রয়ের পর খুররম বর্তমানে বেলতলা এলাকার ময়লা অপসারণ ও স্থানীয় বাজারের ইজারা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "খুররম বা অন্য কাউকে পুনর্বাসন করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভেতর কোনো অনুপ্রবেশকারীর জায়গা নেই।" এদিকে অভিযুক্ত খুররমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি কখনোই সক্রিয়ভাবে শ্রমিক লীগ করিনি। এলাকার ব্যবসায়ী হিসেবে টিকে থাকার জন্য আগের সরকারের সময় কিছু কর্মসূচিতে যেতে হতো। আমি আগে থেকেই বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী এবং এখন দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করছি। ময়লা বা বাজারের ইজারা নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে, এখানে কোনো জোরজুলুম নেই।" তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এই দলে টানার বিষয়টি এক প্রকার স্বীকারই করে নিয়েছেন বনানী থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, "৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আগে দেশের বেশিরভাগ মানুষই তো আওয়ামী লীগ ছিল। আমরা জানি কে কে আওয়ামী লীগ ছিল। সবকিছু জেনেও আমরা অনেককে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছি। দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অনেককে সুযোগ দিতে হচ্ছে।" বিএনপির এই ‘সাধারণ ক্ষমা’ এবং পুনর্বাসন নীতি নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর মামলা-হামলার শিকার হয়ে যারা দল টিকিয়ে রাখলেন, তারা আজ কোণঠাসা। আর যারা এতদিন দাপটের সাথে চাঁদাবাজি করেছেন, তারা কেবল দল বদলে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। এই প্রক্রিয়ার পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা অবিলম্বে এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিন্ডিকেটবাজদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। |