|
অনিয়মের তদন্ত চায় সরকার, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলের
নতুন বার্তা, ঢাকা:
|
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক মতিঝিল থেকে এবার জাতীয় সংসদে গড়িয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনীত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূত ঋণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে বিরোধী দল ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে এস আলমের দোসর আখ্যায়িত করে তার অপসারণ দাবি করেছে।বিধি-৬৮-তে বিরোধীদলীয় নেতার জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার উত্থাপনীয় বিষয় ছিল– ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে আলোচনা।’ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নোটিশ উত্থাপন করার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির দিকে আবারও ‘দখলকারী চক্রের’ নজর পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এবং দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক হয়রানি ও অপপ্রচারের মধ্যেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটির বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ব্যাংক লুটপাট করে, যার ফলে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চরম অব্যবস্থা চলছে। ৮৯ কোটি টাকার একজন ঋণখেলাপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। অন্যদিকে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন আমানতকারীরা। তিনি বলেন, এ দেশে রিজার্ভ চুরির মতো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। এস আলম গ্রুপের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বলা হয় ইসলামী ব্যাংককে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। এটি কেন বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাংক হবে? আবদুল আউয়াল মিন্টু সাহেব একটি ব্যাংকের কর্ণধার, আমরা কি সেটাকে বিএনপির ব্যাংক বলব? মির্জা আব্বাস ঢাকা ব্যাংকের ডিরেক্টর, সেটা কি বিএনপির ব্যাংক? কিংবা প্রয়াত আবদুল জলিল সাহেব যে ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিলেন, সেটাকে কি আমরা আওয়ামী লীগের ব্যাংক বলব? বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিয়ে সৎ লোকদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালনা করা না হলে তিন কোটি গ্রাহক রাস্তায় নামবে এবং দেশে বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হবে। বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি একজন পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজ এবং অর্থ আত্মসাৎকারী। এরা এস আলমের মতোই জনগণের বাকি টাকা লুট করে নিয়ে যাবে। এ কারণেই গ্রাহকদের মধ্যে বিরাট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নতুন করে এস আলমের কোনো দোসরকে ব্যাংকে বসানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আগের মতো সৎ লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে। তা না হলে গ্রাহকেরা ও ব্যাংকের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আন্দোলন করবে এবং দেশে একটি বড় ধরনের অস্থিরতা (আনরেস্ট) তৈরি হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারসমূহ প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল কিংবা চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার পূর্ণ রেগুলেটরি ক্ষমতা প্রয়োগ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইবনে সিনার মাত্র ২ শতাংশ শেয়ার ব্লক মার্কেটে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের কাছে ব্যাংকের প্রায় ৮১ থেকে ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোন শেয়ারহোল্ডার কীভাবে এই শেয়ার খরিদ করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা আইনি তদন্তের ওপর জোর দেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’ বা আরডিএস-এর আওতায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে। নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার জন্য নারীদের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে বিতরণ করে ‘কোরআনের দল’ হিসেবে ভোট চাওয়ার রাজনৈতিক প্রচারণারও সমালোচনা করেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো সঠিক হদিস নেই এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু গ্রুপের ঋণ অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, নাবিল গ্রুপ ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে লোন নিয়েও মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়নি। এই গ্রুপটি ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লায়াবিলিটি থাকা সত্ত্বেও একটি টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি লান্তাবোর গ্রুপকে প্রধান কার্যালয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের বা সিএসআর ফান্ডের অর্থ দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট কাটার মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ব্যাংকটি জোরপূর্বক দখলের পর নিয়মবহির্ভূতভাবে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যারা বর্তমানে রাস্তায় আন্দোলন করছেন। এর বিপরীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ৬ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভেঙে বেআইনি চাকরিচ্যুতির শিকার কর্মীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়া নিয়োগগুলোর বৈধতা তদন্তের কথা জানান তিনি। ব্যাংক কোম্পানি আইনের সেকশন ৪৫, ৪৬, ৪৭ এবং ৫৭(এ)-এর কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে, মুদ্রানীতি ও ব্যাংক নীতি রক্ষার্থে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্নকারী যেকোনো কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ বা তদন্ত প্রমাণিত হয়নি, নতুন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহকদের উসকানি দিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও ফুটেজসহ সব প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডকে ইসলামের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয় এবং সবকিছুতেই ‘ইসলামের ওপর হাত দেবেন না’ বলে দোহাই দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী নাকি ব্যাংকের মালিক না। আবার তারা বলছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নন। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপর হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকটির শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল, অবিলম্বে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কীভাবে তারা শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন সেটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই এক্সপোজড, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন। আর সমুদয় যে শেয়ার তিনি কিনেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ৮২ শতাংশের মালিক হয়েছেন, সেগুলোর মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেননি, শোল মাছও ভেজেছেন।’ ব্যাংকটিতে অবৈধ নিয়োগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘১০ হাজার কর্মচারীকে সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর তাদের আবার পরীক্ষায় বসার জন্য ডাকা হলেও তারা কেউ আসেনি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক অভিযোগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি দলের নির্বাচনী ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন। উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি মেডেল দেব।’ বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের দেওয়া ‘জামায়াতে ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ বয়ানের ভিত্তিতেই ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১২ বছরে তো তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারাকাত হতে যাচ্ছি? আরডিএস প্রকল্প কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মেরও নয়। আমি নিজে বোর্ডে ছিলাম, আমি জানি এখানে সব ধর্মের মানুষ সুবিধাভোগী।’ ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছেন। সেই এস আলম আবারও ফিরে আসার প্রমাণ হলো বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি যখন রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং শাস্তিও পেয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন এস আলমের সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন। সেই পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তার স্ত্রীর নামে অস্তিত্বহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন অসৎ লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না। ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক আস্থার একটি পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব, বাস্তবতার ভিত্তিতে এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তাহলে আমরা গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? ব্যাংকটি বাঁচুক, আমরা এটাই চাই।’ আলোচনার শেষভাগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এর মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো কোনো বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গোল্ড মেডেল দাবি করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা অর্থ নিয়েছেন তারা তো কেউ নিজের নামে টাকা নেননি। এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচন থেকে। আমরা দেখেছি, নির্বাচনে কিছু কিছু এলাকায় ক্যান্ডিডেটরা অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ করেছেন। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা আয়ের উৎস জানা নেই, অথচ তারাও নির্বাচনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে, তখন তা গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের চরিত্র নিয়ে বিরোধী দল থেকে যেসব বক্তব্য এসেছে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি। মন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই উচ্ছৃঙ্খলতার সঙ্গে বিরোধী দলের আশঙ্কার একটি যোগসূত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত কিছু অশুভ শক্তি ইসলামী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের মানুষকে হতাশ করে এমন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আগামী বাংলাদেশ গড়ার শপথ থেকে নির্বাচিত বিরোধী দলকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার এবং তুচ্ছ ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। স্টার্টআপে ৪০০ কোটি টাকার প্রণোদনা, ডলার বাজারে স্বস্তি স্টার্টআপ, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে এবং বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আস্থা পুনরুদ্ধারে পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনসহ একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদেরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগের সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে তরুণদের জন্য বিনা সুদের কোনো ঋণ প্রকল্প না থাকলেও সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আর জামানত সাপেক্ষে ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ নামে আরও ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। শুধু ঋণ নয়, স্টার্টআপ খাতে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো ইক্যুইটি সহায়তা পাবে। ডলার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ। ব্যাংকিং খাতে বড় সংস্কার কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত রেজল্যুশন কাঠামো গড়ে তুলেছে। তিনি জানান, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’-এর আওতায় পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ, একজন গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং বড় অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (এডিআর), অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের জন্য প্রণোদনা নীতিমালা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত বৈধ মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। ডাক সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস এবং ঢাকায় ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতকে সহায়তা করতে দেশে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন এবং আইটি খাতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিড়িতে কর বাড়ছে না সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ফলে নতুন অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়ছে না। বিড়ির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং প্রচলিত কর কাঠামো বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আগামী অর্থবছরে বিড়ির মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিম জনসংখ্যার ‘দ্বিগুণ’ দেশে বর্তমানে বৈধভাবে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মন্ত্রী জানান, এসব মোবাইল অপারেটরের নিবন্ধিত বৈধ সিমের মোট সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। তবে এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার ডাক বিভাগের সেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস বা পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মন্ত্রী বলেন, ডাক বিভাগের সেবা আরও গতিশীল করতে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতকে সহায়তা দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকায় ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’ স্থাপন করা হবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদকে জানান, ঢাকায় ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’ স্থাপন করা হবে এবং ‘আমার ডাক’ অ্যাপের মাধ্যমে ডাকসেবাকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সরকার ‘সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করছে বলেও জানান তিনি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় তরুণদের আইটি দক্ষতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার গ্র্যাজুয়েটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ১৩টি দেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হবে বলেও সংসদে জানানো হয়। |