/ মতামত / গণতান্ত্রিক শাসনের মূল ভিত্তি ন্যায়বিচার ও সমতা
গণতান্ত্রিক শাসনের মূল ভিত্তি ন্যায়বিচার ও সমতা
রায়হান আহমেদ তপাদার:
Published : Tuesday, 9 June, 2026 at 6:12 PM
গণতান্ত্রিক শাসনের মূল ভিত্তি ন্যায়বিচার ও সমতান্যায়বিচার শব্দটির উচ্চারণেই যেন এক অনিবার্য নৈতিক শক্তির প্রতিধ্বনি শোনা যায়। এটি শুধু আইন-কানুনের শুষ্ক ধারণা নয়; বরং মানবসভ্যতার দীর্ঘ অভিযাত্রায় গড়ে ওঠা নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্মিলন এবং সহাবস্থানের মূল ভিত্তি।প্রাচীন সমাজের সহজ বিচারপ্রথা থেকে আধুনিক রাষ্ট্রের জটিল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা-প্রতিটি পর্যায়ে ন্যায়বিচার মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিতেই নিহিত ন্যায্যতার আকাক্সক্ষা; অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জন্মায় স্বস্তি, বিশ্বাস এবং সামাজিক সংহতি। ন্যায়বিচারের এই শক্তি না থাকলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু কাঠামোবিহীন কাঠামোতে পরিণত হয়। এটি নাগরিকদের নৈতিক বোধকে সক্রিয় রাখে, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে এবং রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে বিশ্বাসের সেতুবন্ধ গড়ে তোলে। মূলত ন্যায়বিচারের চেতনাই গণতন্ত্রের ভিত্তি- যা নিশ্চিত করে যে মানুষ শুধু আইনের অধীনে নয়, নৈতিকতার আলোকে সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা পায়। এই চেতনাই রাষ্ট্রকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়, নাগরিককে সক্রিয় করে এবং সমাজকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রাখে। যখন নাগরিকরা নিজেদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেই ভয় করতে শুরু করে, তখন কোনো জাতি এগোতে পারে না। সরকার জনগণের সেবা করার জন্য-ভয় দেখানোর জন্য নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ মানুষের মধ্যে আস্থা, ন্যায়বিচার ও বিশ্বাস সৃষ্টি করা; আতঙ্ক ও সন্দেহ নয়। পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকত্বের একটি মৌলিক অধিকার। পাসপোর্ট শুধু বিদেশ ভ্রমণের নথি নয়-এটি একজন নাগরিকের পরিচয়, জাতীয়তা এবং নিজের রাষ্ট্রের প্রতি তার বৈধ সম্পর্কের স্বীকৃতি। যখন কোনো সরকার রাজনৈতিক পরিচয়,সন্দেহ বা প্রশাসনিক পক্ষপাতের ভিত্তিতে এই অধিকার প্রয়োগ করে, তখন তা ন্যায়বিচার, সমতা ও গণতান্ত্রিক শাসনের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। 

দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক সরকারগুলো কূটনৈতিক পাসপোর্টের মর্যাদা ও গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে। অনেকে পেশাগতভাবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না কিংবা পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন না, তাদেরও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।এর ফলে ঐতিহ্যগতভাবে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী কূটনীতিকদের জন্য সংরক্ষিত এই নথির গুরুত্ব ও মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কূটনৈতিক পাসপোর্টের অপব্যবহার সংশোধনের নামে কোনো নাগরিককে সাধারণ পাসপোর্ট থেকে বঞ্চিত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক, যার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ড বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই, তার সমানভাবে পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি সাংবিধানিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত প্রশ্ন।দুঃখজনকভাবে,অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এমন কিছু চর্চা গড়ে ওঠে, যা দেখে মনে হয়েছে পূর্ববর্তী সরকারে কাজ করেছেন বা একসময় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ধারণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার মানসিকতা কাজ করেছে।বহু সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তা,পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এক ধরনের অলিখিত সন্দেহ ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। আইন ও বিধিমালার ভিত্তিতে আবেদন মূল্যায়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচিতি ও ইচ্ছাকৃত প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আরও দুঃখজনক হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার অনির্বাচিত প্রশাসন সমাজে বিভাজন সৃষ্টির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। মানুষকে পাশাপাশি দাঁড়াতে উৎসাহিত করার পরিবর্তে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর প্রবণতা তারা উৎসাহিত করেছে। শত শত মানুষ পাসপোর্ট পেতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব, জটিলতা ও অপমানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন সাবেক কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের সাধারণ পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায়ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অস্বাভাবিক সম্পৃক্ততা যোগ করা হয়। এতে বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক নজরদারির সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার ঘনিষ্ঠদের আমলে পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল। যদিও অনেক নাগরিক আমলাতান্ত্রিক হয়রানি কমার কারণে এটিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবু ক্রমে অভিযোগ ওঠে যে, অতিরিক্ত শিথিলতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। এমনো অভিযোগ সামনে আসে যে, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়াই বাংলাদেশে অবস্থানরত অনাগরিক বা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।একটি পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক ভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌম নিশ্চয়তার প্রতীক। এর বিশ্বাস যোগ্যতা ক্ষুণ্ন হলে তার প্রভাব শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আজ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা নাকচ হওয়ার ঘটনা এর একটি অন্যতম নিদর্শন। শুধু ভিসা প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা নয়, দুর্বল যাচাই ব্যবস্থা প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশযাত্রা কঠিন করে তুলতে পারে এবং রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপশাসনের সময় আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় ছিল বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অন্যায় আচরণ। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে যারা আগে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা সরকারি দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেককে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, বিলম্ব এবং ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ ছাড়াই যাত্রীদের যাত্রা বিলম্বিত বা আটকে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর চেয়েও উদ্বেগজনক ছিল গণমাধ্যমের কিছু অংশের ভূমিকা। বিমানবন্দরের এসব ঘটনার পর কিছু যাত্রীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও চাঞ্চল্যকর সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসমক্ষে সন্দেহভাজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনেক শিরোনাম ও প্রতিবেদন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নিরপেক্ষ তথা উপস্থাপনের চেয়ে ব্যক্তি বিশেষকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রবণতা বেশি ছিল। 

এটি শুধু পেশাগত নীতির পরিপন্থী নয়; বরং সমাজে ভয় ও বিভাজনের সংস্কৃতি তৈরি করে। যখন নাগরিকরা নিজেদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেই ভয় করতে শুরু করে, তখন কোনো জাতি এগোতে পারে না। সরকার জনগণের সেবা করার জন্য-ভয় দেখানোর জন্য নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ মানুষের মধ্যে আস্থা, ন্যায়বিচার ও বিশ্বাস সৃষ্টি করা; আতঙ্ক ও সন্দেহ নয়। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন বহু নাগরিকের মধ্যে স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের প্রত্যাবর্তনকে অনেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনির্বাচিত প্রশাসনের বিতর্কিত চর্চাগুলো থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এটি উৎসাহব্যঞ্জক যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব বিষয়ে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাবেক কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের প্রতি তুলনামূলক মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ এবং বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমানোর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। তবে সংস্কার অর্ধেক পথে থেমে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশ এখন এমন একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও অধিকারভিত্তিক পাসপোর্ট ও অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে। এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য কয়েকটি মৌলিক নীতি জরুরি। যেমন: রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত পটভূমি বা অতীত সরকারি সম্পৃক্ততা নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পেশাদারত্ব ও সংযমের সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার না হন। এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় পূর্বের যথাযথ যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অ-নাগরিকরা পাসপোর্ট না পায় বা পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অপব্যবহার রোধ করা যায়, আবার প্রকৃত নাগরিকরাও হয়রানির শিকার না হন।সবশেষে, গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা চরিত্র হননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনির্বাচিত প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষতিকর উত্তরাধিকার ছিল নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি। তাদের সবচেয়ে বড় মেটিকুলাস ডিজাইন ছিল সমাজে মানুষকে সহনাগরিক নয়, প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে শেখানো। তবে এটি স্বস্তিদায়ক যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময় সেই বিভাজনের রাজনীতি ধীরে ধীরে অবসানের দিকে যাচ্ছে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাভাবিক; কিন্তু সন্দেহ, প্রতিশোধ ও সংঘাতনির্ভর শাসনব্যবস্থা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক মেরূকরণের জন্য বড় মূল্য দিয়েছে। এখন দেশের প্রয়োজন পুনর্মিলন, প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। নাগরিকদের উচিত জাতি গঠনের কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো, মুখোমুখি সংঘাতে নয়। যেকোনো সরকারের দায়িত্ব শুধু আইন পরিচালনা নয়; সামাজিক আস্থা ও জাতীয় সংহতি রক্ষা করাও। যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা উভয়ই। এখন জাতির প্রত্যাশা বাংলাদেশ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাবে; যেখানে নাগরিক অধিকার সম্মানিত হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ থাকবে এবং প্রশাসন দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে।ন্যায়বিচারবিহীন গণতন্ত্র শুধু ক্ষমতার দখল; গণতন্ত্রহীন ন্যায়বিচার শুষ্ক ও যান্ত্রিক। সত্যিকারের রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তখনই, যখন আইন সবার জন্য সমান, বিচার প্রভাবের বাইরে, প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং আদালত পুরোপুরি স্বাধীন। রাষ্ট্রের শক্তি অস্ত্রে নয়-এটি নাগরিকের বিশ্বাসে নিহিত, যা জন্মায় সহজলভ্য ও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়ে। ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র শুধু আনুষ্ঠানিক কাঠামো, আর গণতন্ত্র ছাড়া ন্যায়বিচার হয়ে ওঠে যান্ত্রিক ও অমানবিক। তাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের সাফল্য নির্ভর করে ন্যায়বিচারের চেতনাকে জীবন্ত রাখার ওপর; যখন ন্যায়বিচার সক্রিয় থাকে, তখনই গণতন্ত্র সুস্থ থাকে, নাগরিকের আস্থা অটুট থাকে এবং রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে মানুষের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, যুক্তরাজ্য 


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


 
পাকিস্তানে আধাসামরিক বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত, ৩ জনকে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা
পাকিস্তানে আধাসামরিক বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত, ৩ জনকে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও তিনজন সদস্যকে জিম্মি ...
নতুন পে-স্কেল জুলাই থেকেই, বাজেটে আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
নতুন পে-স্কেল জুলাই থেকেই, বাজেটে আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা ...
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ...
অনিয়মের তদন্ত চায় সরকার, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলের
অনিয়মের তদন্ত চায় সরকার, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলের
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিতর্ক মতিঝিল থেকে এবার জাতীয় সংসদে গড়িয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনীত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন ...
ভুয়া জরিমানার বার্তায় ক্লিক করলেই বিপদ, সতর্ক করল বিআরটিএ
ভুয়া জরিমানার বার্তায় ক্লিক করলেই বিপদ, সতর্ক করল বিআরটিএ
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা পরিশোধের নামে ভুয়া মোবাইল বার্তা (এসএমএস) ও জাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। এসব ...
বন্দরে পণ্য খালাসে গতি আনতে বেসরকারি ল্যাবের দ্বার খুলছে
বন্দরে পণ্য খালাসে গতি আনতে বেসরকারি ল্যাবের দ্বার খুলছে
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। এই বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। এছাড়া, দেশের ...
ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছে মানুষ, বাড়তে পারে ‘তারল্য সংকট’
ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছে মানুষ, বাড়তে পারে ‘তারল্য সংকট’
দেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ আবারও বাড়ছে। যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে মনে করা ...
ট্রাম্পের মুখে ইরানের সঙ্গে চুক্তির আভাস, কমল তেলের দাম
ট্রাম্পের মুখে ইরানের সঙ্গে চুক্তির আভাস, কমল তেলের দাম
ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক ইঙ্গিতের পর বিশ্ব বাজারে ...
বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায়। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির ...
১০
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের আগে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ...
 
বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাজেট বৃদ্দির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য ...
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক
প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ এর ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসক শরীফা হক । ...
কালিহাতীতে বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫টি গরুর মৃত্যু
কালিহাতীতে বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫টি গরুর মৃত্যু
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ফসলি জমির মাঠে বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশের খুঁটি ভেঙে পড়ে থাকা তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচটি গরু মৃত্যু হয়েছে।বুধবার ...
সুবিধার আশায় ঋণ পরিশোধে অনীহা, খেলাপির ঘোড়া আবার ছুটছে
সুবিধার আশায় ঋণ পরিশোধে অনীহা, খেলাপির ঘোড়া আবার ছুটছে
জাতীয় নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছিল। সেই সাময়িক স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি। নতুন ...
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
জোরপূর্বক শ্রমে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কারোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক ...
বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদের: ‘গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়ান হান্নান মাসউদ’
বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদের: ‘গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়ান হান্নান মাসউদ’
‌‘গণঅভ্যুত্থানের পরে সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ!’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান। ৩ ...
৩০ কিমি রেলপথ বানাতে এক যুগ পার, রেলওয়ের নতুন আবদার
৩০ কিমি রেলপথ বানাতে এক যুগ পার, রেলওয়ের নতুন আবদার
ঢাকার সঙ্গে নদীবন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ সহজ করা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং ভারী পণ্য পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডুয়েলগেজ ...
ট্রাম্প জামাতা কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট ঘিরে উত্তাল আলবেনিয়া
ট্রাম্প জামাতা কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট ঘিরে উত্তাল আলবেনিয়া
আলবেনিয়ার পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল আড্রিয়াটিক উপকূলে একটি বিশাল বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশটির হাজার হাজার ...
নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
আসরের আগের দুবারও শিরোপার মঞ্চে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবার শক্ত প্রতিপক্ষ নেপাল বাধাও ডিঙিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারের লড়াইয়ে এসেছে ২-১ ...
১০
নতুন ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে সরকারের চিঠি
নতুন ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে সরকারের চিঠি
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ইতোমধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব ...
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইউসুফ আহমেদ (তুহিন)
প্রকাশক কর্তৃক ৭৯/বি, ব্লক বি, এভিনিউ ১, সেকশান ১২, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ থেকে প্রকাশিত ও ৫২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, ঢাকা ১১০০ থেকে মুদ্রিত
বার্তাকক্ষ : +৮৮০১৯১৫৭৮৪২৬৪, ই-মেইল editor@natun-barta.com, Web : www.Natun-Barta.com.com