|
৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেল ছিনিয়ে নিতে হত্যা, তেল বিক্রি করে প্রতারিত আসামি: র্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা :
|
নারায়নগঞ্জ থেকে ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেল সংগ্রহ শেষে গন্তব্য মাগুরার মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স-এর উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন ট্রাক চালক আ.রহমান। পথেই হত্যার শিকার হন তিনি। উদ্ধার করা হয় তার অর্ধগলিত মরদেহ। এ ঘটনায় কল্পনাকারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব বলছে, মূলত ভোজ্য তেল ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে চক্রটি। তবে চক্রটি তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে তেল পৌঁছে দিলেও সেটার মূল্য বুঝে পায়নি বলে জানানো হয়। ফলে আসামিরাও প্রতারিত হয় বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (০৯ জুন) মিরপুর ১ নম্বর পাইকপাড়া অবস্থিত র্যাব ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত 'মাগুরায় চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ট্রাক ছিনতাই এবং চালক হত্যার ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন র্যাব-৪ এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ আরমান হোসাইন হৃদয়। গ্রেফতারকৃতরা আসামি- চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী মো.ওহিদুল ইসলাম (৩৬)। শেখ আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, গত (২০ মে) ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মিসিং ট্রাক রাস্তার উপর পাওয়া যায়। এই ট্রাকের ভিতরে অর্ধগলিত একটি লাশ ছিল। লাশটি ছিল আঃ রহমান (৫৮) যিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক ছিলেন। মাগুরার মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স নামের একটি কোম্পানির মালিকের ড্রাইভার ছিলেন তিনি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মালামাল আনা নেওয়াই ছিল তার কাজ। তিনি বলেন, গত (১৭ মে) সে মাগুরা থেকে খালি ট্রাক নিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকাতে আসে অর্ডারকৃত ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেল সংগ্রহের জন্য। পরে গত (১৮ মে) বিকালের মধ্যে সে তার সব কাজ শেষ করে রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে সে তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। নারায়ণগঞ্জের কাচপুর থেকে যখন সে মাগুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে তখন তার সঙ্গে আমাদের মূল যে আসামী ওহিদুল ইসলাম সে মাগুরাতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। সেও পেশায় একজন ড্রাইভার ছিল। তখন ভুক্তভোগী আ.রহমান তার মালিককে বিষয়টি জানিয়ে তাকে গাড়িতে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আসামি ওহিদুল গাড়িতে উঠে বলে আমারও একজন ভাতিজা আছে তাকেও নিয়ে যেতে চাই রাস্তা থেকে সে উঠবে। এরপর গাড়ি যাত্রা শুরু করে। তারপর চালকের সাথে গাড়িতে রৌনা দেওয়া আসামি তার পছন্দমতন ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় এসে ওয়াশরুমের ব্রেক দরকার জানালে তারা ব্রেক দেয়। সেখান থেকে আসামের ভাতিজা আজাদ হোসেন ওরফে হিটলার গাড়িতে ওঠে। এরপর তারা তিনজনে রওনা হয়। এরপর কিছুদূর যেতেই মূল আসামি ওহিদুল আবার ব্রেক করতে বলে। সেখানে ব্রেক দিলে সেখান থেকে সাগর নামের আরেক আসামি গাড়ির পেছনে উঠে তেলের ড্রামের পাশে লুকিয়ে থাকে। যখন তারা সেখান থেকে রওনা দেয় তখন গাড়ির সামনের সিটে ভুক্তভোগী আ.রহমান ও আসামি ওয়াহিদ ও হিটলার সামনের আাসলে ছিল। কিছুদূর যেতেই হিটলার একটি চাকু বের করে ভুক্তভোগী চালকের গলায় ধরে। গাড়ি ও ৬০ ব্যাড়েল তেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং এক পর্যায়ে গাড়িটাকে ব্রেক করে ভুক্তভোগের গলার মধ্যে গামছা পেচিয়ে আ.রহমানকে হত্যা করা হয় চালকে পেছনের আসনে রেখে লাশটি ঢেকে রাখে। পরে মূল আসামি বাকি রাস্তার ট্রাক ড্রাইভ করে নিয়ে গিয়ে মাগুরা সদরে একটি দোকানের তেলের সবগুলো ব্যারেল আনলোড করে এবং পরবর্তীতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় গাড়ি ও ভুক্তভোগীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, পরবর্তীতে মাগুরার মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স যখন তার তেল বুঝে না পাই এবং চালকের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে থানায় একটি অভিযোগ দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মাগুরা থানা থেকে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে একজন হিটলার যে চাকু ধরেছিল। আর বাকিরা যারা আসামিদের কাছ থেকে তেল কিনেছিল। এরপর আমরা আমাদের তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারি এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ওহিদুল ঢাকার সাভার এলাকায় আত্মগোপনে আছে। তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (০৮ জুন) গভীর রাতে আমাদের র্যাব ৪ এর আভিধানিক দল অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। তবে পলাতক আসামি সাগরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামি মাদকাসক্ত। তার সাথে কথা বলে যাটা জানতে পেরেছি তেল বিক্রির টাকাটা সে এখন পর্যন্ত পাইনেই। সেও প্রতারিত হয়েছে। টাকাটা না পেয়ে সে সাভারে এসে আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। |