|
ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু, এডিস মশার লার্ভার খুজে সিসিক যাবে প্রতি বাড়ী,সচেতন থাকতে হবে নগরবাসী
সবাই সচেতন থাকলে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব, আমরা ডেঙ্গুমুক্ত নগরী চাই --সিসিক প্রশাসক
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট ব্যুরো:
|
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী র্যালিতে নেতৃত্ব দেন।র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় নগরভবনে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সবাই সচেতন থাকলে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব আমরা ডেঙ্গুমুক্ত নগরী চাই। “আমরা একটি ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্যেই ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন মৌসুম শুরু হয়েছে, তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। নিজেদের আঙিনা, বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।” সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত নগরীতে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। মসজিদের জুমার খুতবায়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হবে।” মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী মাস থেকে প্রতিটি বাসাবাড়িতে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা হবে।” সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “নগরবাসী অত্যন্ত দায়িত্বশীল। বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আমরা তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। তাই প্রাথমিকভাবে কোথাও এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং সচেতনতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। বাসাবাড়িতে যাতে পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি বাড়িতে লার্ভা নিধনের ওষুধ নিয়ে যাওয়া হবে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তা স্প্রে করে ধ্বংস করা হবে। সবাই সচেতনভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে।” সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের বছরের মতো এবারও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। হাসপাতালগুলোতে সিসিকের পৃথক সার্ভিল্যান্স টিম কাজ করবে। কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে কুইক রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির বাসা বা সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশের অন্তত ২০টি বাড়িতে অনুসন্ধান চালাবে এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তা ধ্বংস করবে।” র্যালিতে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীনসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। |